ঈদের দিন রক্তাক্ত ফিলিস্তিন

1891

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যখন মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে, একই সময়ে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলেই বিমান হামলায় রক্তাক্ত এক দিন পার করছে ফিলিস্তিনের জনগণ।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মতো বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সকালে ফিলিস্তিনি মুসলিমরাও ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু ঈদের দিনও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বোমা বর্ষণ অব্যাহত রাখে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।

বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় গাজার বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। টানা কয়েকদিনের হামলায় ভূখণ্ডটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে অন্তত ১৭ জন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৯০ জনেরও বেশি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। ইসরায়েলি হামলায় রক্তাক্ত এক দিনে ঈদ পার করছে ফিলিস্তিনের মুসলিম জনগণ।

খবরে বলা হয়, গাজার বেশিরভাগ মানুষ ঈদের আগের রাতে সারারাত জেগে ছিলেন। রাত পোহালেই খুশির ঈদ। কিন্তু আগের রাতে দফায় দফায় বোমা হামলার বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছিল গোটা উপত্যকা। মানুষের মধ্যে চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়ছিল।

ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিমান হামলায় তাদের দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সঙ্গে গাজা সিটি কমান্ডার বাসেম ইসা নিহত হয়েছেন।

বুধবার রাত থেকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর ভবনগুলো ছাড়াও সশস্ত্র যোদ্ধাদের ঘাঁটিগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে টানা উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও ঈদের দিনেও হামলায় রক্তাক্ত পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে পবিত্র মসজিদ আল-আকসায় ঈদের নামাজে অংশ নিয়েছেন বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান বুধবার রাতে এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ইসরায়েল মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে এবং অবিলম্বে এর অবসান ঘটাতে হবে। জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ ও মুসলিমদের ওপর ইসলায়েলের ঘৃণ্য হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে তুরস্ক।

অপরদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের চলমান সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে দূত পাঠাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন।