যতদিন প্রয়োজন গাজায় হামলা চলবে: নেতানিয়াহু

504

ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের রকেট হামলাকে অবরুদ্ধ গাজায় চলমান সংঘাত ও সহিংসতার সূচনার কারণ হিসেবে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

তিনি সদর্পে ঘোষণা করেছেন, ‘যতদিন প্রয়োজন গাজায় হামলা অব্যাহত রাখা হবে। তবে এতে হতাহত কতটা কম রাখা যায়, তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’

গতকাল শনিবার এক টেলিভিশন বক্তৃতায় নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘চলমান এ সংঘাতের জন্য অপরাধবোধে ভোগার করা তাদের, যারা আমাদের ওপর হামলার মাধ্যমে এটি শুরু করেছে। আমাদের কোনও অপরাধবোধ থাকার কথা নয়।’
‘অভিযানের মাঝামাঝি পর্যায়ে আছি আমরা। এটা শেষ হয়নি। যতদিন প্রয়োজন গাজায় হামলা চালিয়ে যাওয়া

নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্যের পর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। গাজায় হামাসপ্রধানের বাড়ি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রবিবার (১৬ মে) সকালেও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৩ জন নিহত হয়েছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গাজা থেকে হামাস ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে রকেট হামলা চালানোয় সাধারণ লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়।

নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘হামাস ইসরায়েলের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পক্ষান্তরে আমরা সাধারণ মানুষের মৃত্যু এড়াতে বা কমাতে যা যা করা দরকার সব করছি। শুধু সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হচ্ছে।’
গাজায় সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েল ও হামাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে

গতকাল শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের চলমান সংঘাত মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির মধ্যেই আজ রবিবার (১৬ মে) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তৃতীয় দফা ভার্চুয়ালি জরুরি বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতারেসসহ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলো অনতিবিলম্বে এই সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানালেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাতে সাড়া দেননি। নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ইসরায়েলে শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য যতদিন প্রয়োজন, ততদিন হামলা অব্যাহত থাকবে।’
সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দৃঢ়ভাবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। এক টুইট বার্তায় ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। আমি যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের জন্য দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানাই। আমি শান্ত অবস্থা ও শান্তির জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

ক্রমবর্ধমান এই হামলা-পাল্টা হামলার জেরে তেল আবিবের সঙ্গে সব ফ্লাইট বাতিল করেছে ইউরোপীয় এয়ারলাইনগুলো। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজের ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ভার্জিন আটলান্টিক, জার্মানির লুফথানসা, স্পেনের আইবেরিয়া, ডেল্টা এয়ারলাইনস, আমেরিকান এয়ারলাইনস ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনস।
২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলিদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ৭ সপ্তাহের যুদ্ধের পর এবারই সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘাত চলছে।

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জারাহ এলাকায় থেকে বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাস্তুচ্যুত হওয়ার শঙ্কা থেকে এবারের সংঘাতের সূত্রপাত। এই ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো যেখানে বসবাস করছে তার প্রকৃত মালিক ইহুদিরা, গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষের বেশ কয়েকটি সংগঠনের এমনই দাবি।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনিরা এ ঘটনাকে জেরুজালেম থেকে তাদের বাস্তুচ্যুত করার ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে দেখছে।

এ নিয়েই এপ্রিলের শেষ দিকে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভ, ইসরায়েলিদের বসতি স্থাপনকারী ও পুলিশের সঙ্গে তাদের ছোটখাটো সংঘর্ষ হতে থাকে। গত ১০ মে থেকে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।

চ্যানেল উগান্ডা