শেখ হাসিনাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ: ওবায়দুল কাদের

400

আওয়ামী লীগের সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সেদিন ফিরে এসেছিলেন বলেই এই করোনা সংকটেও বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের অগ্রনায়ক শেখ হাসিনা। তাকে ঘিরে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ।

সোমবার (১৭ মে) দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন এই দিনটি বাঙালি জাতি তথা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনুসারি ও স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি আপামর জনতার জন্য একটি বিশেষ দিন। কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি যদি না আসত তাহলে বঙ্গবন্ধু মুজিবের নাম এদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হত। স্বাধীনতাবিরোধী চিহ্নিত রাজাকার আলবদর ও ধর্মীয় উগ্রবাদীরা জাতীয় পতাকা গাড়িতে উড়িয়ে ঘুরে বেড়াত।

১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকণ্ডের ঘটনা স্মরণ করে নানক বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মদদে দেশীয় সামরিক ও সাম্রাজ্যবাদের বেসামরিক চক্রের ষড়ূযন্ত্রে সামরিক বাহিনীর কতিপয় উসৃঙ্খল সদস্য স্বাধীনতা আন্দোলনের একক নেতা আমাদের প্রিয় জন্মভূমির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গববন্ধুর আদর্শের অনুসারি নেতা-কর্মীরাসহ সমগ্র জাতি কিংকর্তব্যবিমুঢ় ও হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। ফলে কোনও রকম প্রতিরোধ-প্রতিবাদ বা বিভক্তিহীন পরিবেশের মধ্যে ষড়যন্ত্রকারী চক্রটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নেয়।

বিদেশে অবস্থান করার কারণে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার বেঁচে থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নানক বলেন, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাত্র ২৭ বছর ১০মাস ১৭ দিন বয়সে পিতা-মাতা ভ্রাতৃবধু একমাত্র চাচাসহ পরিবারের ১৭জন আপনজনকে হারিয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র ছোট বোন শেখ রেহানা, স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে প্রবাসে নির্বাসিত জীবন-যাপন করতে থাকে। তিনি নীরবে মাতৃভূমির রাজনৈতিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে জগদ্দল পাথরের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় চেপে বসা সামরিক স্বৈরশাসকদের মামলা-হামলা নির্যাতন নিপীড়নে দিশেহারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষ প্রত্যক্ষ করতে থাকে নানা গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে বিভক্ত নেতৃত্ব, নেতৃত্বশূন্য দলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতার অশুভ কার্যক্রম।

ঠিক এমনি এক পরিবেশে ১৯৮১ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে বহুধা বিভক্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণে ৩৩ বছর চার মাস ১৭দিন বয়সে দেশের সর্ববৃহৎ এবং প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা। মানবতার জননী, নির্ভীক জননী আজকের প্রধানমন্ত্রী সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। সভাপতি নির্বাচতি হওয়ার তিন মাস একদিন পর ১৯৮১ সালের ১৭ই মে সম্পর্ণ প্রতিকূল পরিবেশ জেনেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিতামাতা ভাইবোন বিহীন দেশের জনগণের টানে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।

দেশে ফেরার পর চার দশকে শেখ হাসিনার লড়াই-সংগ্রাম, আন্দোলন ও রাষ্ট্র পরিচালনার অগ্রযাত্রার অপ্রতিরোধ্য পথচলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আজকে প্রত্যাবর্তনের চার দশকে ব্যক্তি শেখ হাসিনাকে বরাবরেই দেখা গেছে কল্যাণমুখী মানসিকতায় যেকোন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সব সামলিয়ে নেয়ার বলিষ্ট নেতৃত্বের ভূমিকায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য সুকৌশলে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। প্রাকৃতিক আর মনুষ্যসৃষ্ট সব বাধা বিপত্তির বিপরীতে পিতৃহারা শেখ হাসিনা যখন ঢাকায় ফিরছিলেন, সেই সময়টাতেও প্রকৃতি ছিল এক রুদ্ধমূর্তির বাতাবরণে। কালবৈশাখীর ঝড় সামলিয়ে চলা শুরু হত তো সেই থেকেই।

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজও মুখোমুখি এক অদৃশ্য ঝড়ের। নানান সূচকে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছিল, সত্যিকারের সোনার বাংলা হয়ে উঠতে। ঠিক তখনি বৈশ্বিক মহামারির বাধা এসে হাজির। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই এখন পুরো জাতি। এর মধ্যেও থেমে নেই এর করালগ্রাস থেকে উত্তরণের চেষ্টা। যার নেতৃত্ব দিচ্ছে আমাদের সেই নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। আর এই সবকিছুই সম্ভব হয়েছে যার নেতৃত্বে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি ফিরে এসেছিলেন প্রিয় মাতৃভূমিতে ফলে তিনিই অসহায় মানুষের ত্রাণকর্তা। তিনি দিকনির্দেশক, অর্থনৈতিক মুক্তির অগ্রযাত্রার বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

ভয়কে জয় করে সেদিন তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ এই করোনা সংকটেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের অগ্রনায়ক তিনি। তাকে ঘিরে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ।

আলোচনা সভার প্রধান অতিথি তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সাদেক খান। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে বক্তব্য রাখেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিয়ষক সম্পাদক আব্দুস সবুর, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দীন ফরাজী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম।

চ্যানেল উগান্ডা/প্রতিবেদন