এক প্রতিবেদনে তোলপাড় সারাদেশ, গণভবনে অস্বস্তি

1102

ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত এক যুগে শেখ হাসিনার সরকার যেমন গুম, খুন, ধর্ষণ, লুটপাটসহ বিভিন্ন নৈরাজ্যে রেকর্ড গড়েছে তেমনি নিশি নির্বাচন থেকে ‍শুরু করে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় থাকার কৌশলও শিখিয়ে দিয়েছেন। শুধু তাই নয় গণমাধ্যমগুলোকেও গলাটিপে হত্যা করেছেন।

দেখা গেছে, ক্ষমতাসীনদের দুর্নীতি-লুটপাট, খুন-হত্যা, দখল বাণিজ্যসহ কোনো অপরাধ নিয়ে গণমাধ্যমগুলো প্রতিবেদন করলেই কথিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে করা কালো আইন দিয়ে মামলা করে শুরু হয় সাংবাদিকের উপর অত্যাচার নির্যাতন। অন্যদিকে সরকারের মদদে কিছু গণমাধ্যম সকল অপকর্ম চাপা দিয়ে কথিত উন্নয়নের রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সত্যকে তো আর বেশি দিন চাপা দিয়ে রাখা যায় না। বিগত ১২ বছর ধরে চাপিয়ে রাখা সেই সত্যগুলো এখন বের হতে শুরু হচ্ছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা শেখ হাসিনা ও সেনা প্রধান আজিজের হাত ধরে কিভাবে বড় বড় মাফিয়া গড়ে উঠেছে তার একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেশের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে আছে আল জাজিরার প্রতিবেদন। আল জাজিরা বলেছে, তাদের হাতে এমন আরও ১০টি প্রতিবেদন আছে। এগুলো তারা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করবে। ধারণা করা হচ্ছে-পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে শেখ হাসিনার লুটপাট ও গুম-খুনের আরও ভয়ঙ্কর তথ্য থাকতে পারে।দ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনা ও সেনা প্রধান আজিজকে নিয়ে করা আল জাজিরার প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরই চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে একটি হালকা প্রতিবাদ করা হয়েছে। আল জাজিরা যেসব পয়েন্টের তথ্য প্রকাশ করেছে, সরকারের পক্ষ থেকে এগুলো যে মিথ্যা সেটা প্রমাণ করার মতো কোনো যুক্তি দেখাতে পারেনি। আর সরকারের মন্ত্রীরা সবাই একই সুরে বলে যাচ্ছেন যে, আল জাজিরার প্রতিবেদন অসৎ উদ্দেশে করা হয়েছে। এটা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন রিপোর্ট। আল জাজিরা হলুদ সাংবাদিকতা করে। তারা এসব বললেও আল জাজিরার প্রতিবেদনকে মিথ্যা প্রমাণ করার মতো কোনো যুক্তিপূর্ণ তথ্য দিতে পারছে না।

জানা গেছে, আল জাজিরার এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন শেখ হাসিনা নিজেও। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে আল জাজিরার নাম উল্লেখ না করে বলেছেন-দেশে-বিদেশে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু হয়েছে।