ঘূর্ণিঝড় ইয়াস: উপকূলজুড়ে ঝরছে বৃষ্টি

300

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আগামী বুধবার (২৬ মে) শেষ বিকেলের দিকে উপকূলে আঘাত হানতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান অনুযায়ী অনুমান করা হচ্ছে, এটি বেশ শক্তি নিয়েই আঘাত হানবে এবং বেশকিছু সময় ধরে তাণ্ডব চালাবে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এমনটাই জানানো হয়েছে।

এরই মধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন উপকূলে বৃষ্টি ঝরছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আরও বাড়বে। এজন্য উপকূলবাসীকে সতর্ক করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ শুরু হয়েছে। ঝড়ের সবশেষ তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণের জন্য খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ।

ঢাকাস্থ আগারগাঁওয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান রাত পৌনে ১০টার দিকে বলেন, ‘লঘুচাপটি এরই মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি কাল ভোরের দিকে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এখন উপকূলের কোনো কোনো জায়গায় বৃষ্টি হচ্ছে।’

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-এর প্রভাবে এই বৃষ্টি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এই আবহাওয়াবিদ বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি এখনো সাগরে আছে। এখন বর্ষাকালে তো এমনিতেই বৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবেও বৃষ্টি হয়। এই বৃষ্টিটি আজ গভীর রাত বা কাল ভোরে ঢাকাসহ সারা দেশেও হতে পারে।’

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সবশেষ বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (তিন নম্বর) বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার; যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বইছে। বৃষ্টিপাত হলে কমতে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। এর ফলে সারা দেশে তাপমাত্রা কমতে পারে।

এদিকে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপমাত্রা বইছে। এই তাপপ্রবাহ কিছু কিছু স্থানে প্রশমিত হতে পারে।

অন্যদিকে সৃষ্ট লঘুচাপটি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করে তা ঘনীভূত হয়ে প্রথমে সুষ্পষ্ট লঘুচাপে এবং পরবর্তীতে আরও ঘনীভূত হয়ে দুপুর ১২টায় একই এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
এটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। লঘুচাপের বাড়তি অংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী পাঁচদিনে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’-র পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এস এম সরওয়ার কামাল স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয় কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বর হলো : ০১৩১৮২৩৪৫৬০।
এ ছাড়া আসন্ন ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’মোকাবিলার নির্দেশনা দিয়ে আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনলাইনে এক জরুরি সভা করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

অনলাইনে যুক্ত হয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক বলেন, ‘বন্যা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা আমাদের জন্য নতুন নয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাঁধ মনিটরিংসহ জরুরি কাজের জন্য পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে। সেইসঙ্গে প্রকৌশলীদের কাছে আক্রান্তদের জন্য মাস্ক, স্যালাইনের ব্যবস্থা রাখা হবে।’

মাঠপর্যায়ে সবার উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে লোকবল নিশ্চিত করাসহ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে। দুর্যোগ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ স্টেশন ত্যাগ করতে পারবে না। কোথাও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) আলম আরা বেগম, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) রোকন উদ-দৌলা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এ কে এম ওয়াহেদ উদ্দিন চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফজলুর রশীদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ কে এম শামসুল আলম প্রমুখ।

চ্যানেল উগান্ডা