আমাকে গোপনে নির্যাতন করা হয়েছে-রোজিনা

1710

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের করোনার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ এসেছে। তবে তার রক্তে শর্করা কিছুটা বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

সোমবার (২৪ মে) সকালে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে সাধারণ শয্যায় নেয়া হয়েছে।
সরকারি নথি চুরির অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির দুটি ও অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের দুটি ধারায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা মামলায় গতকাল রবিবার জামিনে কারামুক্ত হন রোজিনা ইসলাম।

ওইদিন বিকেল ৪টার পর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে রোজিনাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

রোজিনার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু সোমবার গণমাধ্যমকে জানান, রবিবার রাতেই রোজিনার করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল নেগেটিভ আসায় সোমবার সকালে আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে তাকে সাধারণ শয্যায় নেয়া হয়েছে।

এদিকে রোজিনার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কয়ার হাসপাতালের ইন্টার্নাল মেডিসিন ও আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা) ইউনিটের কনসালটেন্ট ডা. রায়হান রাব্বানী।
রোজিনার সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে। বর্তমানে ওই হাসপাতালে তিনি মেডিসিন বিভাগের প্রধান চিকিৎসক রাসেল রাব্বির অধীনে রয়েছেন।

ডা. রাসেল রাব্বি বলেন, ‘রোজিনার রক্তে শর্করা একটু বেড়ে গেছে। অন্য রিপোর্টগুলোর ফল দু-একদিনের মধ্যে হাতে আসবে। তখন হয়তো বলা যাবে, তার স্বাস্থ্যের কী অবস্থা।’
গতকাল রবিবার (২৩ মে) সকালে ৫ হাজার টাকার মুচলেকার বিনিময়ে শর্তসাপেক্ষে রোজিনার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম বাকি বিল্লাহর ভার্চুয়াল আদালত। শর্তানুযায়ী, রোজিনাকে আদালতে নিজের পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গত ১৭ মে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান সাংবাদিক রোজিনা। পরে খবর পাওয়া যায়, সেখানে কর্মকর্তারা একটি কক্ষে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করে। এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সেখান থেকে রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নিয়ে রাখা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. শিব্বির আহমেদ উসমানী রোজিনা ইসলামের নামে ১৭ মে রাতেই সরকারি তথ্য চুরির অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরও কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ আনে।
১৮ মে রোজিনাকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। অন্যদিকে রোজিনার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে রোজিনা ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং জামিন শুনানির জন্য ২০ মে দিন ধার্য করেন। ওইদিনই তাকে গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে নেয়া হয়। ৬ দিন কারাভোগের পর ২৩ মে বিকেলে কারামুক্ত হন রোজিনা।

গত ২০ মে ঢাকা মহানগর হাকিম বাকি বিল্লাহর ভার্চুয়াল আদালতে সাংবাদিক রোজিনার জামিন শুনানি শেষে আদেশের জন্য ২৩ মে দিন ধার্য করেন। ওই দিন রোজিনার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি, আমিনুল গনি টিটু, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, প্রশান্ত কুমার কর্মকার ও আশরাফুল আলম। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের জামিনের বিরোধিতা করেন হেমায়েত উদ্দিন হিরোন।

এরইমধ্যে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডিবির রমনা জোন মামলাটি তদন্ত করছে।
হেনস্তার পর অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টের মামলায় রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতারের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। এমনকি রোজিনার বিষয়টির দিকে তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখছে বলেও জানায়। রোজিনাকে হেনস্তা ও গ্রেফতারে দেশের নানা মহলে নিন্দার ঝড় উঠে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিন্দা জানিয়ে খবর প্রকাশ করে। রোজিনার মুক্তি দাবি জানান মার্কিন সাংবাদিক নেতারাও।

চ্যানেল উগান্ডা