রোজিনা ইস্যুতে ভর করেছে বিএনপি: কাদের

229

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি নামক দলটি সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়ে এখন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ইস্যুতে ভর করে ফায়দা লুটবার অপচেষ্টা করছে।’

পাকিস্তানি বা হেফাজতপন্থিরা যাতে কোনও সুযোগ না নিতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (২৫ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রোজিনা ইস্যুটি প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিকভাবে দেখছেন। তাকে রিমান্ডে নেয়া উচিত নয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করেছেন। আদালত যথাযথ সিদ্ধান্তই নিয়েছে, তার জামিনে সরকারপক্ষ কোনও বিরোধিতা করেনি।’

তিনি বলেন, ‘রোজিনা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যারা এদেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে বারবার আঘাত করেছে এবং রাষ্ট্রবিরোধী মামলাও করেছে তারাই এখন মায়াকান্না করছে। শেখ হাসিনা সরকার সাংবাদিক বান্ধব সরকার। সরকার এমন কোন কিছু করবে না, যাতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যায়।’

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে এসময় ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মনজুরুল আহসান বুলবুল, ফরিদা ইয়াসমীন, সাজ্জাদ আলম খান তপু, আবদুল মজিদ, রেজায়ানুল হক রাজা, মশিউর রহমান খান ও শাকিল আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে গত রাত থেকেই দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগরসহ উপকূলীয় এলাকার নদ-নদী। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে কয়েক ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। উপকূল সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাটে পানি উঠছে। পানিবন্দি হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ।

ইতিমধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের ৪টি পয়েন্টের বেড়ীবাঁধসহ অনেক এলাকার বেড়ীবাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাশ্রমে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়ীবাঁধ সাময়িকভাবে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও তা প্রবল জোয়ারের পানিতে শেষ রক্ষা হবেনা বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

গাবুরার সোরা গ্রামের মকবুল শেখ বলেন, আমাদের এলাকার বেড়িবাধের নাজুক অবস্থা। জলোচ্ছ্বাস হলে কী হবে আল্লাহ ভাল জানে। ইতিমধ্যে নদীতে কয়েক ফিট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

গবুরা ইউপি চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম বলেন, এখন পর্যন্ত ৪টি পয়েন্টে বাঁধ ছাপিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ শুরু করেছে। কপোতাক্ষ নদের জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ইউনিয়নের অধিকাংশ বাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখন নদীতে ভাটা চলছে এজন্য তেমন একটা পানি প্রবেম করেনি। তবে জোয়ারের সময় পরিস্থিতি ভয়ানক অবস্থা ধারণ করতে পারে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ার ভাটার তুলনায় পানি তিন থেকে চার ফিট বৃদ্ধিও সাথে সাথে ঢেউও বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই কিলোমিটার বাঁধ ঝুকিপূর্ণ রয়েছে। সেগুলো মেরামতের জন্য জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আ ন ম আবুজর গিফারী বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে। আমাদের চার হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছে। এছাড়া পুলিশ, নৌবাহিনী, বিজিবি, গ্রাম পুলিশ মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। ইতিমধ্যে উপকূলীয় এলাকার মানুষকে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে সতর্ক করা হচ্ছে।

চ্যানেল উগান্ডা