আল জাজিরার অনুসন্ধান: জাতিসংঘের প্রশ্নে নিরব বাংলাদেশ

2085

ক্ষমতাসীন দল বিগত ১২ বছর ধরে কথিত উন্নয়নের মিথ্যা-ভিত্তিহীন ও ভুয়া প্রচারণা চালিয়ে বিশ্বসভায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলে সম্মান কামাতে ভুয়া জরিপ মালা তৈরি করে ধরাও খেয়েছেন। তার পরেও বাংলাদেশকে বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে দাবি করে আসছেন তারা। কিন্ত এই দাবিও বেশি দিন ধরে রাখতে পারলেন না শেখ হাসিনা।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে জাতিসংঘের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও ক্ষমতাসীন দল। প্রতিবেদনে উল্লেখিত সেনাবাহিনীর সরঞ্জাম কেনা, ‍দুর্নীতি এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও কোন উত্তর দিতে পারিনি বাংলাদেশ। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, কথিত উন্নয়নের আড়ালে যে মাফিয়াদের বসবাস সে গোমরও এবার অন্তর্জাতিক মহলেও ফাঁস হয়ে গেলো।

জানা গেছে, শেখ হাসিনা ও সেনাপ্রধানকে নিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। অপরদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সাতটি মানবাধিকার সংস্থা নিয়ে গঠিত হিউম্যান রাইটস গ্রুপ নামে সংগঠনটিও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আল জাজিরার এই প্রতিবেদন তদন্ত করার জন্য।

জাতিসংঘ বলছে, আল জাজিরার তথ্যচিত্রে যেসব ইলেকট্রনিক সরঞ্জামের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের বাংলাদেশের সৈন্যদলে সেরকম কোন সরঞ্জাম নেই। এছাড়া প্রতিবেদনে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলো তদন্ত করা উচিত বলে মনে করছেন জাতিসংঘ প্রতিনিধিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আল জাজিরার বাংলাদেশ নিয়ে এই অনুসন্ধান প্রচারের পরই শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। এরপর জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তদন্ত করার আহ্বান জানানোর পর শেখ হাসিনা এখন বড় ধরণের ইমেজ সংকটে পড়েছে।

দেখা গেছে, ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য শেখ হাসিনা বিগত ১২ বছর ধরে বিরোধীদল তথা বিএনপি-জামায়াতের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গুম-খুন ও অপহরণ করেছে। কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে। এরপর হাসিনা তার দলের সন্ত্রাসী ও খুনীদেরকে শাস্তি না দিয়ে তাদেরকে পুরস্কৃত করে আসছে। দলের খুনীরা ফাসির আসামি হলেও রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে তাদেরকে ক্ষমা করে দিচ্ছে। আর এসব ঘটনা যাতে প্রকাশ করতে না পারে সেজন্য মিডিয়ার টুটি চেপে ধরে রেখেছে।

সচেতন মহল বলছেন, সীমাহীন মানবাধিকার লংঘনের পরও শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে কথিত উন্নয়নের ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছে। নিজের অপরাধ-অপকর্মগুলোকে চাপা দিয়ে রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লোকজনকে বাংলাদেশ বিষয়ে মিসগাইড করে আসছে। এখন, আল জাজিরার প্রতিবেদন প্রকাশের পর হাসিনার গোপন কর্মকাণ্ডগুলো বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের লোকজন এখন বুঝতে পেরেছে-শেখ হাসিনার ভেতরের আর বাইরের রূপ এক নয়।