কাবার ‘জান্নাতি’ পাথর হাজরে আসওয়াদের ছবি প্রকাশ

678

প্রথমবারের মতো পবিত্র কাবা শরিফে অবস্থিত ‘জান্নাতি’ পাথর হাজরে আসওয়াদের সবচেয়ে স্বচ্ছ ছবি প্রকাশ করেছে সৌদি সরকার।

স্থানীয় সময় গেল সোমবার (৩ মে) সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয় হাজরে আসওয়াদের সবচেয়ে স্বচ্ছ ছবি প্রকাশ করে।

সৌদি সংবাদমাধ্যম আল এরাবিয়ার খবরে বলা হয়েছে, করোনাকালীন হাজরে আসওয়াদের কাছে ভিড় নেই। এই সুযোগে সৌদি সরকারের দুই পবিত্র মসজিদের জেনারেল প্রেসিডেন্সির ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ হাজরে আসওয়াদ বা ব্ল্যাক স্টোনের ছবি নিয়েছে।

প্রতিটি ছবি তৈরি করতে ৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে। একেকটি প্রতিটি ছবি ১৬০ গেগাবাইটের এবং অবিশ্বাস্য ৪৯ হাজার মেগাপিক্সেলের ছিল।

এর পর ফোকাস স্ট্যাকিং নামে একটি কৌশল ব্যবহার করে ছবিগুলো শার্প করতে ৫০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। বিভিন্ন ফোকাস পয়েন্টের সঙ্গে একাধিক ফটো একত্রিত করে, ডিজিটাল ফটোগ্রাফিতে ফোকাস স্ট্যাকিং করা হয়।

গত ৪ মে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয় এসব ছবি প্রকাশ করে। এখন যে কেউ প্রথমবারের মতো একটি বর্ধিত ডিজিটাল ফটোতে পাথরটিকে খুব কাছ থেকে ও ব্যক্তিগতভাবে দেখতে পারবেন।

‘হাজরে আসওয়াদ’ কাবাঘরের দেয়ালে বিশেষভাবে স্থাপনকৃত একটি পাথরের নাম। আরবি ‘হাজর’ শব্দের অর্থ পাথর আর ‘আসওয়াদ’ শব্দের অর্থ কালো। অর্থাৎ কালো পাথর। ‘হাজরে আসওয়াদ’ বেহেশতের মর্যাদাপূর্ণ একটি পাথর।

প্রতিবছর হজযাত্রীরা হজ পালনকালে সরাসরি বা ইশারায় এই পাথরটিকে চুম্বন দিয়ে থাকেন।
রাসুলের নবুয়তপূর্ব সময়ে কাবা পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদ আগের স্থানে কে বসাবেন- এ নিয়ে কোরাইশদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধেছিল। তখন মহানবী (সা.) নিজের গায়ের চাদ খুলে তাতে ‘হাজরে আসওয়াদ’ রেখে সব গোত্রপ্রধানকে চাদর ধরতে বলেন।

গোত্রপ্রধানরা চাদরটি ধরে কাবা চত্বর পর্যন্ত নিয়ে গেলে নবী করিম (সা.) নিজ হাতে তা কাবার দেয়ালে স্থাপন করেন এবং দ্বন্দ্বের অবসান ঘটনা।

আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.) এর শাসনামলে হাজরে আসওয়াদ ভেঙে তিন টুকলো হয়ে গিয়েছিল। পরে তিনি তা রুপা দিয়ে বাঁধাই করেছেন। তিনিই প্রথম হাজরে আসওয়াদকে রুপা দিয়ে বাঁধাই করার সৌভাগ্য অর্জনকারী।
পবিত্র এই বেহেশতি পাথরটির দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৭ ইঞ্চি। বর্তমানে এটি ৮ টুকরো।

সুত্র-চ্যানেল উগান্ডা