যারা গুম হয়, তারাই জানে এর কী কষ্ট: মান্না

433

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না নিজেও গুম হয়েছিলেন এ তথ্য জানিয়ে বলেন, যারা গুম হয়, তারাই জানে এর কী কষ্ট। যিনি ক্ষমতায় আছেন তিনি সেটি আনুমান করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস হয় না।

শুক্রবার (২৮ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গুম হওয়ার সদস্য পরিবারদের সংগঠন মায়ের ডাক আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম সপ্তাহ উপলক্ষে এক সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে মিরপুরের কাঠ ব্যবসায়িক ইসমাইল হোসেন বাতেন ২০১৯ সালের ২০ জুন থেকে নিখোঁজ। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তার মেয়ে আনিসা ইসলাম বলেন, বাবাকে ফিরে পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী র‌্যাবের কাছেও অভিযোগ করেছি আমরা। কিন্তু দু বছর হয়ে গেলেও এখনও কোনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আ লীর ছেলে আবরার ইলিয়াস বলেন, টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে আমার বাবা ও তার গাড়ি চালক গুম হন৷ এ অন্যায়ের প্রতিকার পেতে হলে সরকারের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে৷

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যতবারই এই প্রোগ্রাম হয়েছে, ততবারই আমি এসেছি এবং ততবারই হৃদয় বিদারক দৃশ্য বুকের ভেতর নিতে হয়েছে। প্রতিবছরই স্বজনরা বুক চাপড়ে স্বজনদের ফিরে পেতে চান, গুম হওয়া সদস্যদের খবর জানতে চান। তারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, আমরা আমাদের স্বজনদের খবর জানতে চাই। এখানে অনেক শিশুরা তাদের কথা বলেছেন, যা শুনে আমার চোখেরর কোণে পানি চলে এসেছে।

আয়োজকদের পুরো অনুষ্ঠান ভিডিও করে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যখন গুম নিয়ে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি বলেন আমাদের দেশে গুম, খুন বলে কিছু নেই। আমাদের দেশের কিছু মানুষ জমিজমা নিয়ে বিরোধ, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায়। এগুলো নিয়েই সবাই কথা বার্তা বলে। তার এ বক্তব্যের আমরা ধিক্কার জানাই। আমাদের এখানে যারা কথা বলে তা তারা দেখতে আসেননি। আবারও বলি, এ সরকার কোনও মানবিক সরকার না। মানুষ মরে যায় রাস্তায় গাড়ি চাপা পড়ে কোনরকম দুঃখ প্রকাশ করে না। এখানে প্রস্তাব রাখতে চাই, একদিন কোথাও কয়েক ঘন্টা অবস্থান নিন। ঢাকাবাসিকে বলেন, আমাদের হারানো স্বজনদের ফিরে পেতে একাত্ত্বতা ঘোষণা করেন। সরকারকে এভাবে চাপ দিতে না পারলে তা কোনও কাজে আসবে না বলেও তিনি মনে করেন।

প্রথম আলোর জৈষ্ঠ্য প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে মান্না বলেন, যারা মনে করেন রোজিনা ইসলামকে শেখ হাসিনা দয়া করে ছেড়ে দিয়েছেন, তারা ভুল বলেন। দালালগুলো এমন বলতে পারে। সাংবাদিকদের মধ্য যারা দালাল আছে তারাও এ কথা বলতে পারে। তারা বলতে পারে প্রধানমন্ত্রীর দয়ার শরীর, তাই ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু সত্যি কথা হলো, রোজিনা ইসলামকে ছেড়ে না দিলে বিপদ আরও বাড়তে পারতো। ওইররকম বিপদের জায়গা তৈরি করেন।

সমাবেশে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, এখানে অনেকে আমাদের সাথে রয়েছে, যারা জানে না তাদের স্বজনরা কোথায় রয়েছে। তাদের যখন নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তখন তারা সেই কষ্ট নিয়ে এখনো জানতে চান তারা কোথায় আছে, আমরা কি তাদের খোঁজ পাবো? তাদের কবর জিয়ারত করতে পারবো? যে সরকার বৈধতা দাবি করে, তার জনগণকে এভাবে গুম করে তাদের সম্পর্কে আমরা কি ভাববো? এখানে যে শিশুরা রয়েছে তারা বছরের পর বছর হচ্ছে, কিন্তু ছবির মানুষটা কি অবস্থায় আছে, জানে না। তাদের খুঁজে বের করার কোনও উদ্যোগ নেই। যে মানুষগুলোর মাঝে এ ধরণের শূণ্যতা রয়েছে, তা কিভাবে সরকার পূর্ণ করবে?

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসেও এসব নিখোঁজদের ছবি নিয়ে আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হয়েছে। শুধুমাত্র ভিন্নমত ও রাজনীতির কারণে তাদের গুম করা হয়েছে। বিরোধীদলের মনোভাব ভেঙে দিতে এমন করা হয়েছে। শুধু গুম, খুনেই ক্ষ্যান্ত হয়নি তাদের ধরে নিয়ে রিমান্ড দিয়ে আর রাজনীতি করবি না বলে স্বীকারোক্তি নিচ্ছে। এবার কম দিয়েছি এরপর এলে আরও বেশি দেবো। আমাদের বক্তব্য কেউ শুনতে চায় না।

মায়ের ডাক সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন আফরোজা ইসলাম আখির সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিকারের পরিচালক নাসির উদ্দিন এলানসহ গুম হওয়া সদস্য পরিবারের সদস্যরা।

চ্যানেল উগান্ডা