খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির রাস্তায় নামা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাফরুল্লাহ

345

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির রাস্তায় নামা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া এতদিন জেলে, অথচ বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয় সরকার তাদের এলএসডি খাইয়ে দিয়েছে।’

শনিবার (২৯ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘রাজনৈতিক সংকট: উত্তরণ কোন পথে’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা ব‌লেন।

জাফরুল্লাহ বলেন, বিএনপি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের জন্য ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। একজন মৃত ব্যক্তির জন্য ১৫ দিনের কর্মসূচি করছেন আর জীবিত খালেদা জিয়ার অবস্থা খুব খারাপ। উনার যে সব লক্ষণ দেখছি আগামী নির্বাচন পর্যন্ত পাবেন কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আমরা দোয়া করি যেন উনি বেঁচে থাকেন।

আজকে এজন্য অনেকগুলো পরিবর্তন আমাদের দরকার মন্তব‌্য ক‌রে জাফরুল্লাহ ব‌লেন, বিএনপিকে প্রমান করতে হবে তারা এলএসডি খায় নাই। তা নাহলে তারা আত্মহত্যা করছে। তাদের চিন্তার এত দীনতা, এত লোক আছে তাদের , তারা যেভাবে যাচ্ছে আমরা হয়তো খালেদা জিয়াকে আর বেশিদিন পাবো না। আমি গত ৩ বছর ধরে বলে আসছি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা মুক্ত খোলা বাতাসে হাঁটতে দেওয়া। তাহলেই উনি ভালো হবেন। কেবল ওষুধে রোগ ভালো হয় না। ওষুধের সঙ্গে জনগণের ভালোবাসা যখন উনি দেখবেন উনি তখন সুস্থ হবেন।

তি‌নি ব‌লেন, বিএনপি সত্য কথা বলতেও ভয় পায়। তাদের (বিএন‌পির) উচিত ছিল যেদিন থেকে সরকার তাকে (খা‌লেদা জিয়া)‌ বাইরে যেতে দেয়নি সেদিন থেকে অনশন করা। সেদিনই বলা উচিত ছিল কাশিমপুরে যেতে চাই, ফিরোজাতে থাকতে চাই না। ফিরোজাতে উনাকে রাখা আরেকটা ধাপ্পাবাজি। উনি কি বধির, কানে শুনেন না? ১৫ দিনের কর্মসূচিতে বিএনপির উচিত মুক্তির জন্য রাস্তায় নামা।

বিএনপিকে কৃতজ্ঞতা জানানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা এই পর্যন্ত আসার পেছনে জিয়াউর রহমানের চেয়ে খালেদা জিয়ার অবদান বেশি। জিয়াউর রহমান অকালে প্রয়ান করেছেন, আপনারা যখন হতাশায় ভুগছিলেন, আপনাদের কোনও পথ ছিল না, এই সাধারণ একজন গৃহবধূ আপনাদের একত্রিত করেছেন। আপনাদের দুইবার ক্ষমতায় এনেছেন এটা তারই অবদান। বিএনপির লোকেরা খালেদা জিয়ার প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে বলে আমি মনে করি। এজন্য তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, আজকে বিচার বিভাগ সরকারের দালাল, খাদেম, আইন মন্ত্রীর চাকরে পরিণত হয়েছে। কোর্টে এমন একটা চেয়ার সেটা নাড়াচাড়া করা যায় না। দুইজন লোক লাগে নাড়াতে। এতেই বুঝা যায় তাদের মস্তিস্ক কত অথর্ব হয়ে গেছে।

এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে জনগণের টাকায় মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞাপন পত্রিকায় দেয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর বিচার দাবি করেন।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. সেলিম ভূঁইয়া, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

চ্যানেল উগান্ডা