জিয়া জাতিকে এক করেছিলেন, আ.লীগ শুধু ধ্বংসই করেছে: ফখরুল

431

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান বিভক্ত জাতিকে একত্রিত করেছিলেন। নতুন বিপ্লব শুরু করেছিলেন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য। আর আওয়ামী লীগ আজ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এদেশের উদার রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বন্ধ করে দিচ্ছে। তারাই আজকে সাম্প্রদায়িকতা উগ্রবাদের জন্ম দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এ দেশকে নির্মাণের জন্য কখনোই কোনও শুভ কাজ করেনি। এদেশের জন্য তারা কোনও ভালো কাজ করেনি। শুধুমাত্র ধ্বংসই করেছে।’
রবিবার (৩০ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ তাঁর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একজন ক্ষণজন্মা নেতা। জাতির সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে তিনি সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে তিনি সমগ্র জাতিকে যুদ্ধের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেছিলেন এবং নিজে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন। এর মধ্য দিয়েই তিনি দেশকে স্বাধীনতার পথে নিয়ে গিয়েছিলেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে তিনি (জিয়াউর রহমান) জাতিকে মুক্ত করেছেন। জাতিকে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন। জাতির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিলেন। একটি বিভক্ত জাতিকে তিনি একত্রিত করেছিলেন। নতুন বিপ্লব শুরু করেছিলেন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য।’

জিয়াউর রহমান প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘মাত্র সাড়ে তিন বছরে গোটা জাতিকে সমগ্র বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন। আমরা আজকের এই দিনে তাঁকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি।’

ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের এই জাতি যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লড়াই করেছিলো আওয়ামী লীগ সুপরিকল্পিতভাবে সেই উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে আবারও একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ছদ্মবেশে প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে।’

গোটা জাতিকে আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসুন ১৯৭১ সালে যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা লড়াই করেছিলাম, সেই আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আজকে আবার লড়াই শুরু করি, সংগ্রাম শুরু করি।’
বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম জিয়ার জ্বর নিয়ন্ত্রণে, দু-একদিনের মধ্যেই সেরে যাবে বলে আমরা আশা করছি। তাঁকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করছে সরকার।’

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, মোর্তাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, গোলাম সরোয়ার, কৃষকদলের কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, আমিনুর রহমান আমিন, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, মৎসজীবী দলের আব্দুর রহিম, ওলামা দলের হাফেজ শাহ মোহাম্মাদ নেছারুল হকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

চ্যানেল উগান্ডা