জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে জেলে থাকতো: হাসান মাহমুদ

504

আওয়ামী লীগ এর তর্থমুন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেন জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে জেলে থাকতো। খালেদা জিয়া যেমন দুর্নীতি করে জেলে আছে ঠিক তেমন জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে জেলে থাকতো বলে মন্তব্য করেন হাসান মাহমুদ। ২০১৪ সালে বিএনপি দুর্নীতি করেও ক্ষক্ষমতায় আনতে পারিনি।

হাসান মাহমুদ আরো বলেন চুরি ডাকাতি গুম খুন বিএনপির কাজ তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাইতে চাই না। বিএনপি এখন ভাঙ্গা নৌকার মত পরে আছে। জিয়াউর রহমান এর ছেলে তারেক রহমান লন্ডন পালিয়ে আছে। তারেক রহমানও দেশে থাকলে জেলে থাকতো বলে মন্তব্য করেন হাসান মাহমুদ।

তিনি আরো বলেন বিএনপির এখন মিডিয়ার সামনে বড় বড় কথা বলা ছাড়া তাদের উপাই নাই জনগন এখন আর বিএনপির পাশে নাই বলে জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আবার জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তবে এখন তাঁর শরীরে কোনও জ্বর নেই বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বেগম জিয়ার চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা অত্যন্ত পরিশ্রম করছেন। তাদের সুচিকিৎসার কারণেই তাঁর (খালেদা জিয়া) জ্বর নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে। তারা আশাবাদী হচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন জ্বর আর আসবে না, সেজন্য তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

রবিবার (৩০ মে) সকালে জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ তাঁর মাজার জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দুঃখ হয়- যে নেত্রী গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন লড়াই করেছেন আজীবন, ১৯৭১ সালে পাক-হানাদার বাহিনীর কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, তাকে চিকিৎসার জন্য আজকে সুযোগ দেয়া হয় না। বারবার করে বলা হয়েছে তার অ্যাডভান্স চিকিৎসা দরকার। কিন্তু সরকার প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির জন্য তাকে সেই সুযোগ দিচ্ছে না।’

এসময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বিভক্ত জাতিকে একত্রিত করেছিলেন। নতুন বিপ্লব শুরু করেছিলেন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য। আর আওয়ামী লীগ আজ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এদেশের উদার রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বন্ধ করে দিচ্ছে। তারাই আজকে সাম্প্রদায়িকতা উগ্রবাদের জন্ম দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ এ দেশকে নির্মাণের জন্য কখনোই কোনও শুভ কাজ করেনি। এদেশের জন্য তারা কোনও ভালো কাজ করেনি। শুধুমাত্র ধ্বংসই করেছে।’

এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, মোর্তাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, গোলাম সরোয়ার, কৃষকদলের কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, আমিনুর রহমান আমিন, সাইফ মাহমুদ জুয়েল, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, মৎসজীবী দলের আব্দুর রহিম, ওলামা দলের হাফেজ শাহ মোহাম্মাদ নেছারুল হকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে গুলশানের বাসা ফিরোজা’য় তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসা শুরু হয়। করোনায় আক্রান্তের ১৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট করা হয়। কিন্তু আবারও ফলাফল পজিটিভ আসে।

গত ২৭ এপ্রিল রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় গত ৩ মে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
এরইমধ্যে গত ৮ মে বেগম জিয়ার করোনার তৃতীয় নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে।

৭৫ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসন দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত। প্রায় আড়াই বছর কারাভোগের পর দেশে করোনা পরিস্থিতি ও বয়স বিবেচনায় গত বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে সরকার। এরপর থেকেই তিনি গুলশানের বাসা ফিরোজা’য় ছিলেন। সাজা স্থগিতাদেশ এরইমধ্যে দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে।

২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর বিদেশে তিন মাসের চিকিৎসা শেষে ফিরেছিলেন খালেদা জিয়া। এরপর তাঁর আর বিদেশে যাওয়া হয়নি। এবার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বেগম জিয়াকে বিদেশে নেয়ার আবেদন জানালেও শেষ পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি সরকার।

চ্যানেল উগান্ডা