ঘনঘন ‘ভূমিকম্প’ সিলেটে ঝুঁকিপূর্ণ ২৪টি ভবন বন্ধ

328

পর পর ছয়বার ভূ-কম্পনের কারণে সিলেটে প্রবল ভূমিকম্পের আশঙ্কায় তালিকাভূক্ত ২৪টি ঝুকিপূর্ণ ভবন আগামী ১০দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। জনগণের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এসব ভবনে অবস্থানরতদের নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (৩০ মে) বিকাল ৩টায় সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ভবনগুলো বন্ধ ঘোষণা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাছাকাছি সময়ে একাধিকবার ছোট ছোট ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার ঘটনায় ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা সিলেট খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এজন্য বহুতল ভবনের বাসিন্দাসহ নাগরিকদের অন্তত এক সপ্তাহ সতর্ক থাকতে বলেছেন তারা। ভূতত্ত্ববিদদের এই পরামর্শের ভিত্তিতে সিসিকের তালিকাভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ২৪টি সরকারি বেসরকারি ভবন ও বিপণী বিতান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দিবাগত রাত চারটা পর্যন্ত ৬ বার ভুমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছেআতঙ্কে অনেকে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায়, সিলেটে ছয়বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে ১০টা ৩৬ মিনিটে অনূভূত হওয়া ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে তিন। এরপর সকাল ১০টা ৫১ মিনিটে ৪ দশমিক ১ মাত্রা, ১১টা ৩০ মিনিটে ২ দশমিক ৮ ও দুপুর ১টা ৫৮ মিনিটে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। সবশেষ রোববার ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে ভূমিকম্পে ফের কেঁপে ওঠে সিলেট। দু’বার রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা নির্ণয় করা যায়নি।

এদিকে ভূমিকম্পের ডেঞ্জার জোন সিলেটে ২৪টি সরকারি-বেসরকারি ভবন ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় রয়েছে। রবিবার বিকেলে এসব ভবনে অভিযান চালান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় মানুষের নিরাপত্তায় আগামী ১০দিন ভবনগুলো বন্ধ ঘোষণা করেন।

এ সময় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কাছাকাছি সময়ে ভূমিকম্পের কারণে সিলেট খুবই ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য ভুতত্ববিদদের পরামর্শ মতে তালিকাভূক্ত সকল ঝুঁকিপূর্ণ ভবন আগামী ১০দিনের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। যদি বড় ধরনের আশঙ্কা কেটে যায় তাহলে বন্ধ কমিয়ে আনা হতে পারে।

ঝুকিপূর্ণের তালিকায় থাকা বিপণী বিতানের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা ইচ্ছে করে কারো ব্যবসার ক্ষতি করতে চাচ্ছি না। যেহেতু বড় ধরণের ভূমিকম্পের একটা আশঙ্কা রয়েছে তাই এসব মার্কেট বন্ধ করা হচ্ছে। যাতে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি না হয়। যদি বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা কেটে যায় তাহলে বন্ধ কমিয়ে আনা হতে পারে।

অভিযানে জেলা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস ও গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সিলেটে পরপর পাঁচ বার মৃদু ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। সর্বশেষ রবিবার ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে ভূমিকম্প আরেক দফা অনুভূত হয়।

চ্যানেল উগান্ডা