ক্ষমতা থেকে চলে যাও, রেহাই দাও বাংলাদেশকে : মির্জা ফখরুল

384

নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের জন্য সবাইকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় এই আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আর সময় নেই। আগামী দিনের জন্য নিজেদের তৈরি করে ফেলুন। শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে জনগণকে নিয়ে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। দাবি হবে একটাই- চলে যাও, চলে যাও, রেহাই দাও বাংলাদেশকে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। তা না হলে এই বাংলাদেশের মানুষ কিভাবে তাদের অধিকার আদায় করতে হয় তারা তা জানে।
ক্ষমতাসীনদের অপকর্মের কথা বলতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওদের একজন এমপি কিছুদিন আগে পার্লামেন্টে বলেছেন, বড় চোরদের চুরি দেখে ছোট চোররা এখন লজ্জা পাচ্ছে। বড় চোর হচ্ছে ওদের মন্ত্রী, বড় বড় নেতারা। করোনা মানুষের জীবন নিয়ে যাচ্ছে, মানুষের জীবনের প্রশ্ন, বাঁচার প্রশ্ন, মরার প্রশ্ন। সেখানেও তারা চুরি করছে। টেস্টে চুরি, মাস্কে চুরি, পিপিইতে চুরি, ডাক্তার-নার্সদের টাকা দেয়ার বেলায় চুরি, আইসিইউ বেডে চুরি। শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল চুরি, একটা হাসপাতাল নেই, উদাও হয়ে গেছে। চিন্তা করতে পারেন। আমাদের অর্থনীতিবিদরা বলছেন ছয় লাখ কোটি টাকা গত কয়েক বছরে দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এটিই আওয়ামী লীগ। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী ?উপলক্ষে এই আলোচনা সভা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সহসম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গত নির্বাচনে দলের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন, মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিবসহ মহানগরের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, চারিদিকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চলাফেরা, চাল-চলন দেখেন। রাতারাতি সব আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। এদের হাতে যদি দেশ বেশি দিন থাকে এই দেশের অস্তিত্ব থাকবে না, এ দেশ টিকবে না। ছোট বেলায় আমরা পড়তাম, গানও শুনেছি- ছেলে ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে। এই সেই বর্গী এরা। এদের ভয়ে সব পালিয়ে যাচ্ছে এখন। কাউকে কোনো কথা বলতে দেবে না। কথা বললেই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট, অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট। আর বেশি কথা বললে আমাদের নিপুণ রায় চৌধুরীর মতো একটা মিথ্যা অডিও ক্লিপ তৈরি করে নাশকতার মামলায় ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
জিয়াউর রহমানের জীবনাদর্শ দলের নেতাকর্মীদের জন্য ‘গর্ব’ উল্লেখ করে তা অনুসরণ করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকে দলের নেতাকর্মীরা জেলখানায়, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বন্দী অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশের মাটিতে। এমনি অবস্থায় আমরা ভার্চুয়ালি ও এমন সব আলোচনার মধ্য দিয়ে কথাই বলে যাচ্ছি। আমার মনে হয় কথায় কাজ হবে না। জিয়ার কথায় চলতে হবে- কথা কম কাজ বেশি। এখন কথা বলার চেয়ে বেশি জরুরি সরকারের পতন কিভাবে করাব। সেই পতনের ডাক দেন, সেই আন্দোলনের ডাক দেন। অতীতের ইতিহাসে আমরা থেকেছি, আগামীর ইতিহাসেও আমরা থাকব। আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করব।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, আন্দোলনের ডাক আসলে আামি নব্বইয়ের চেতনায় ঘোষণা দিতে চাই, হাসিনার পতন ছাড়া ঘরে ফিরব না। এভাবে সবাই প্রস্তুতি নিন। এই হাসিনা সরকারকে হটিয়ে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ, তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।
সভাপতির বক্তব্যে হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, এই করোনার সাথে সম্ভবত এই সরকারের একটা আঁতাত রয়েছে। ওনাদের (সরকার) প্রচার করা মৃতের ও আক্রান্তের সংখ্যা দেখেন। যখনই তাদের প্রয়োজন পড়ে মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে, আবার যখনই প্রয়োজন পড়ে মৃত্যু এবং আক্রান্তের সংখ্যা কমে যায়। এই সব ভ ামি করে কত দিন?