আলালের প্রশ্ন : আজ কার কোথায় নিরাপত্তা?

228

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হোক। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকরা সেটা করেনি। না করার কারণে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে এমন একটা অবস্থা তৈরি করলো যে- মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়লো। অনিবার্য অবস্থায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেনি। হঠাৎ করে এসেই সেই দায়িত্বপালন করলেন এক মেজর।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন-এর উদ্যোগে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আলাল বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে রক্ষীবাহিনীকে প্রথম ইনডিমিনিটি দেয়া হয়েছিল। প্রথম ক্রসফায়ার সিরাজ সিকদার। অন্য প্রসঙ্গ নাই বললাম; শহীদ মিনারে ফুল দিতে ভোর রাতে কেন মেয়েরা যেত না? যুবলীগের পাণ্ডাদের ভয়ে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের স্ত্রীকেও যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল তখন। অর্থাৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অচল করা হয়েছিল।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির শাসনামলে বিএনপি সরকার কোনো ভুল করেনি, এটা যে বলবে তার সাথে আমি দ্বিমত করি। ভুলবিহীন সরকার পৃথিবীতে কখনো কোথাও থাকেনি। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে সেই ভুলগুলো কি ইচ্ছাকৃত? না ভুলবশত? বা মাত্রা কতটুকু? আজকের একটি জাতীয় দৈনিকে একটা নিউজ হয়েছে- স্বাস্থ্যখাতে যে দুর্নীতি সেটা সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে। এবং তাদের নিজস্ব লোকদেরকে লাভবান করার জন্য করেছে। আজ পুলিশ পাবলিককে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। পাবলিক হসপিটালে পুলিশকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। কী একটা অবস্থা চলছে দেশে। কার কোথায় নিরাপত্তা? দেশে কারো কোনো নিরাপত্তা নাই।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা সাইয়েদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।