হিন্দু থেকে মুসলিম রহস্যময় এক প্রতারণা

374

হিন্দু ধর্ম থেকে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তর এমন ঘটনা অহরহ আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে আমাদের চোখে ভাসে। বাস্তবে আমরা যা দেখি সবই কি সত্য? নাকি এই মাঝে লোকানে আছে অন্য কোন রহস্য??
প্রতিনিয়ত আমরা ফেইসবুকে দেখি ছেলেমেয়েরা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্মে আসছে কিন্তু বেশিরভাগ মেয়েই লাভ জিহাদের স্বীকার। প্রেমের লোভে নয়তো কোন অর্থের লোভে হিন্দু থেকে মুসলিম হচ্ছে।

হিন্দু থেকে মুসলিম

বাংলাদেশি নায়িকা অপু বিশ্বাস যেভাবে সিনেমাতে চান্স পাওয়ার লোভে পড়ে সাকিব খানের লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে হিন্দু থেকে মুসলিম হয়েছিল ঠিক তেমনি বাংলাদেশ তথা বিশ্বের প্রতিটি মেয়ে লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে হিন্দু থেকে মুসলিম হচ্ছে।
অপরদিকে ভারতে মুসলিম থেকে হিন্দু হচ্ছে সেই একই লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে। সেখানে কেউ মুসলিম থেকে হিন্দুধর্ম গ্রহন করলে তাকে প্রাথমিকভাবে সরকারি আর্থিক সুযোগ সুবিধা থেকে শুরু করে অনেক সুবিধা প্রদান করা হয়।

সাম্প্রতিক ভাইরাল হয় বাংলাদেশে সীমা রানী সরকার নামে এক মেয়ে হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে। কিন্ত এলাকার ঠিকানা বিস্তারিত ইনভেস্টিগেশন করে জানা যায় মেয়েটি এক মুসলিম ছেলের প্রেমের ফাঁদে পড়ে হিন্দু ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। এখানে ইসলামের প্রতি ভালোলাগা বা ভালোবাসা কিছুই ছিলনা। এমনকি ধর্ম ত্যাগ করার পর ছেলেটি মেয়েটিকে বিয়ে পর্যন্ত করেনি। কারন ছেলের পরিবার মেয়েটিকে মানতে রাজী নন। পরবর্তীতে এই সীমা রানী সরকার যজ্ঞ করে নারিকেল ভেঙ্গে পাশ্চচিত্র করে হিন্দু ধর্মে ফিরে আসেন।

তাছাড়া বাংলাদেশে সাধারণত হিন্দু থেকে মুসলিম হওয়ার ঘটনা তেমন শোনা যায়না। কারন বাংলাদেশ মুসলিম দেশ,আর কোরানের নিয়ম অনুসারে কেউ ইসলাম ত্যাগ করলের তাকে গলাকাটার নির্দেশ দেয়া আছে। ফলে কেউ চাইলেও ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে হিন্দুধর্মে বা অন্য কোন ধর্মে ফিরে যেতে পারেনা। অপরদিকে ভারতে অহরহ মুসলিম থেকে হিন্দু হচ্ছে। মুসলিম থেকে হিন্দু হওয়ার জন্য তারা যেকোন মন্দিরে গিয়ে যজ্ঞ করে নারিকেল ভেঙ্গে মন্ত্র উচ্চারনের মাধ্যমে খুব সহজেই হিন্দুধর্ম গ্রহন করতে পারছে। পাশাপাশি অনেকে আবার কাগজে কলমে হলফনামা করে হিন্দু ধর্ম গ্রহন করছে।কিন্তু বাংলাদেশে যারা হিন্দু থেকে মুসলিম হচ্ছে তারা কেউই জীবনে সুখী হতে পারেনি। অপু বিশ্বাসের মতো তাদের সবার জীবনে নেমে আসে করুন পরিনতি।
সাম্প্রতিক সময়ে সিরাজগঞ্জ সরকারি ইসলামিয়া কলেজের ছাত্রী কুমারী গোলাপী রানী দাস এখন মোছা. রেখা খাতুন ওরফে স্বপ্না বিয়ের আশায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিপাকে পড়েছেন। হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম ছেলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঘর-সংসার করার পর স্বপ্নাকে ফেলে যায় তার প্রেমিক। ফলে হতাশা আর ক্ষোভ তার বুকে দানা বাঁধছে। এ নিয়ে অন্ধকার দেখছেন স্বপ্না।

গত শুক্রবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের ফুলকোচা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গত বছর এ বিষয়ে শালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে গোলাপী রানীর পক্ষে কেউই ছিলনা। কারন সে যেহেতু হিন্দুধর্ম ত্যাগ করেছে তাই তার পরিবার বলতে কেউই নেই। এদিকে, রেখা খাতুন ওরফে স্বপ্না বিয়ের দাবিতে গত ১১ দিন ধরে সদর উপজেলার ছোনগাছা বাজারে বাগবাটি ইউপি সদস্য আব্দুল কাদেরের বাড়িতে বিয়ের আশায় দিন গুনছে। স্বপ্না তার প্রেমিককে পেতে ১১ দিন হলো ইউপি সদস্যের বাড়িতে ন্যায় বিচারের আশায় রয়েছেন। নিয়তি তাকে কোন পথে ঠেলে দেবে তা কেউ বলতে পারছে না।

তবে এ বিষয়ে স্বপ্না একটু আশার আলো দেখলেও সামাজিক বিচারে কতটুকু সফলতা বয়ে আনবে তা নির্ভর করছে দুইজন ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর। বিষয়টি নিয়ে চলছে এলাকার মানুষের মাঝে নানা জল্পনা কল্পনা আর ক্ষোভ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজছাত্রী স্বপ্না আভিসিনা হসপিটালে নার্সের চাকরির পাশাপাশি পড়াশুনা করছেন। এরই মধ্যে রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাসী ইউনিয়নের বেগনাই গ্রামের ডা জয়নাল আবেদীনের ছেলে প্রতারক মাহবুব আলম নামে এক বিবাহিত যুবকের খপ্পরে পড়েন স্বপ্না। তিনি তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে হিন্দুধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে আনেন। পরে সেটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করলে এলাকায় জানাজানি হয়। তারপর পারিবারিকভাবে মেয়েকে তার বাবার বাডি থেকে বের করে দেয়া হয় কিন্তু অপরদিকে প্রতারক মাহবুব তাকে বউ হিসেবে মেনে নিতে অপারগতা প্রকাশ করছে। ইসলামের নীতি অনুযায়ী কোন ব্যাক্তিকে ধর্ম ত্যাগ করাতে পারলেই নিশ্চিত জান্নাত। তাই যেই উপায়েই হোক সে কাউকে না কাউকে তার ধর্মে আনতে পারলেই কেল্লাফতে।
অপরদিকে ভারতে প্রতিমাসেই মুসলিম থেকে হিন্দুধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে অনেক ছেলেমেয়ে।

ইসলামের সৃষ্টি অনেক আগে থেকে রয়েছে হিন্দু ধর্ম। আমাদের পূর্ব পুরুষরা সকলেই ছিল হিন্দু। সেই কারণে ইসলাম ছেড়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করল উত্তর প্রদেশের চারটি পরিবার। তাদের মতে আমাদের নবীর পরিবার মূর্তিপূজক ছিল। সেই হিসেবে হিন্দুধর্ম সত্য ধর্ম।
ঘটনাটি ঘটেছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তর প্রদেশে। ওই রাজ্যের আম্বেদনগর জেলার জালালপুর শহরে ঘটেছে এই ঘর ওয়াপসি।

জানা গিয়েছে, জালালপুরের কসাইটোলার এক দেবীর মন্দিরে বৈদিক রীতি মেনে উক্ত চারটি পরিবারকে হিন্দু ধর্মের ছাতার তলায় নিয়ে আসা হয়। সকলকে দেওয়া হয় হনুমান চল্লিশা পাঠ করে, নারকেল ফাটিয়ে পুরোহিতের উপস্থিতিতে ওই চার পরিবারের আট জনকে ইসলাম ছেড়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন।
সনাতন ধর্মে সামিল হয়েছেন সুরজা। এটা তাঁর নতুন নাম। হিন্দু ধর্মে আসার আগে তাঁর নাম ছিল সাকিনা। তাঁর কথায়, “আমাদের পূর্ব পুরুষ সকলেই হিন্দু ছিলেন। আমরা পরে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছিলাম। এখন আমরা ফের হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করলাম।” একইসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “অনেকদিন আমরা ইসলাম মেনেছি। এখন থেকে আমরা হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করলাম। হিন্দু ধর্মের রীতি নীতি মেনেই এবার থেকে চলব।

উত্তর প্রদেশে এই ধর্মান্তর বা ঘর ওয়াপসির ঘটনা নতুন কিছু নয়। বেশ কয়েক বছর ধরে মাঝে মাঝেই শোনা গিয়েছে ঘর ওয়াপসির খবর। এই নিয়ে বিতর্কও কিছু কম হয়নি। প্রবল সমালোচনা সত্ত্বেও হিন্দু সংগঠনগুলি দাবি করেছিল যে ঘর ওয়াপসি প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে। সেই পথে হেঁটেই কী ঘটল জালালপুরের ধর্মান্তরের ঘটনা? এই বিষয়ে জালালপুরের কসাইটোলা মন্দিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “এই চারটি মুসলিম পরিবারের আট জন হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সকলেই স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্মে সামিল হয়েছেন। বলপূর্বক কিছু করা হয়নি।

যেহেতু এখানে প্রেমের টান বা অন্যকিছু ছিলনা তাই বলাই যায়,এখানে অন্য কোন মোহ থাকতে পারেনা। হয়তোবা এখানে অর্থ লেনদেনজনিত কোন ব্যাপার থাকতে পারে। তবে বাংলাদেশের মতো লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে ধর্মান্তরিত হয়নি।

অপরদিকে আরেক পরিবার ছেলে হত্যার সুবিচার পেতে ধর্ম বদল করেছে ১২ সদস্যের এক মুসলিম পরিবার। হলফনামার মাধ্যমে মুসলিম ধর্ম থেকে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করে পুরো পরিবারটি।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাগপতের বরারখা জেলায় এ ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। প্রশ্নে উঠেছে সেখানকার পুলিশের ভূমিকা নিয়েও।
ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাগপতের বরারখা জেলার বাসিন্দা আখতার। মাসখানেক আগে তার ছেলে গুলহাসানের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। পরিবারের অভিযোগ, ছেলেটিকে খুন করা হয়েছে। পুলিশের কাছে খুনের অভিযোগও করেন বাবা আখতার।

কিন্তু পুলিশ খুনের অভিযোগ না নিয়ে সেটাকে শুধু আত্মহত্যার ঘটনা বলে মামলা রুজু করে। এ কারণে প্রচণ্ড হতাশ হন আখতার। শেষমেশ ছেলের হত্যার সুবিচার পেতে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করেন আখতার ও তার পরিবারের ১২ জন সদস্য। সদস্যের সবাই জানান আমরা আগে নিয়মিত নামাজ রোজা পালন করতাম। কিন্তু এত নামাজ রোজা পালনের পরেও যেহেতু আল্লাহতালা আমাদের দিকে তাকায়নি,তাই আমরাও আর আল্লাহতালার কাছে কিছুই কামনা করবনা।
বাগপতের জেলা প্রশাসক ঋষিরেন্দ্র কুমার জানান, পুলিশের তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে আখতার ও তার পরিবার ধর্ম পরিবর্তন করেন বলে আমাদেরকে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার রীতিমতো যজ্ঞ করে ধর্ম পরিবর্তনের আয়োজন করে রাজ্যের যুব হিন্দু বাহিনী। রাজ্যের যুব হিন্দু বাহিনীর (ভারত) প্রধান সৌখেন্দ্র খোখার বলেন, হিন্দু রীতিনীতি মেনেই নাম পরিবর্তন করেছেন আখতারের পরিবার। এ জন্য যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল।

তিনি জানান, খুনের প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দিয়ে পুলিশ সেটা আত্মহত্যা বলে মামলা রুজু করায় আখতার প্রচণ্ড হতাশ হয়ে এ সিদ্ধান্ত নেন।
সৌখেন্দ্র খোখার আরও বলেন- শুধু তাই নয়, স্বধর্মের লোকজনের কাছে সাহায্যের আশায় ছুটে গিয়েছিলেন আখতার। অভিযোগ, সেখানে কোনো সহযোগিতা পাননি। কেউই তার পাশে দাঁড়াতে চাননি। একদিকে পুলিশের ভূমিকা এবং অন্যদিকে স্বধর্মী লোকজনের আচরণ- এই দুই কারণে আখতার প্রচণ্ড অসহায় হয়ে পড়েন। আর সেই কারণেই পরিবারকে নিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করেন তিনি। তিনি আরো জানান, হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান ও নিয়মকানুন দেখে উনার পরিবার মুগ্ধ হয়ে হিন্ধু ধর্ম গ্রহনের সিদ্ধান্তে উপনীত হন। রাজ্যের পক্ষ থেকে পুরো পরিবারকে বিশ লক্ষ রুপি পুরুস্কার সহ সরকারি চাকরিতে সুযোগ সুবিধার ব্যাবস্থার আশ্বাস দেয়া হয়।