ইসলাম মানে স’ন্ত্রা”স নয়; এটা খুব সুন্দর একটা ধর্ম : পগবা

585

ফ্রান্সের জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার

পল পগবা বলেছেন, ইসলাম নিয়ে অনেকের নেতিবাচক ধারণা থাকলেও এটা খুব সুন্দর একটা ধর্ম। এজন্য ধর্মটি সম্পর্কে জানতে হবে।

ইসলাম সম্পর্কে ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মন্তব্যের প্রতিবাদে তিনি ফ্রান্সের হয়ে আর আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলবেন না- এমন একটি

খবর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার কথা জানান। পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে সবাইকে জানতে অনুরোধ করেন।

ফ্রান্সের হয়ে ২০১৮ সালে রাশিয়ায় বিশ্বকাপ জয় করেছেন পগবা। তিনি একজন মুসলিম। জাতীয় দলের হয়ে মোট ৭২টি ম্যাচ খেলে তিনি ১০টি গোল করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২২ সালে কাতারে

অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপেও ফরাসী দলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। পল পগবা ছাড়াও ফরাসী দলে মুসলিম তারকারা হলেন কিলিয়ান এমবাপে,

ওসমান ডেম্বেলে, এনগোলো কান্টে, আদিল রামি, জিবরিল সিদিবে, নাবিল ফেকিরসহ প্রমুখ। ফ্রান্সে খৃস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যার পরেই মুসলিমদের সংখ্যা। ধারণা করা হয় যে দেশটিতে প্রায় ৬০ লাখ মুসলিম বসবাস করেন।

শ্রেণিকক্ষে ইসলামের মহানবীর (সা) কা”র্টুন দেখানোর অভিযোগে শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে বাড়ি ফেরার পথে গ”লা কে”টে “হ”ত্যা” করার পর প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করেন।

ইসলাম ধর্মকে তিনি আন্তর্জাতিক স”ন্ত্রা”স”বাদের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা হচ্ছে সারা বিশ্বে। এর পরেই ফরাসী সরকারের বি”রু”দ্ধে ঝড় উঠেছে মুসলিম

বিশ্বের কিছু দেশে। কয়েকটি দেশে ফরাসী পণ্য বর্জনেরও ডাক উঠেছে। তুর্কী প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ফরাসী প্রেসিডেন্টের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষারও আহবান জানিয়েছেন।

সোশাল মিডিয়া ইন্সটাগ্রামে তিনি ভুয়া খবরের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে পগবা লিখেছেন, কোন কোন সংবাদ মাধ্যম ফরাসী জাতীয় দল ও আমার ধর্ম একসাথে মিশিয়ে ভুয়া খবর তৈরি করেছে। আমি সব ধরনের স”ন্ত্রা”স ও স”হিং”স”তার বি”রুদ্ধে।

আমার ধর্ম শান্তি ও ভালোবাসার এবং এই ধর্মকে শ্রদ্ধা করতে হবে। ইন্সটাগ্রামে পল পগবার অনুসারীর সংখ্যা চার কোটি ২০ লাখেরও বেশি। তবে তিনি ফরাসী প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

পল পগবা মুসলিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন নি। তবে তার মা ছিলেন মুসলিম। ২০১৯ সালে পগবা জানান যে তিনি মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। কেন তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এই প্রশ্নের জবাবে তিনি এর আগে বলেছিলেন, আরো ভালো মানুষ হওয়ার জন্য আমি মুসলিম হয়েছি।

মুসলিম বলতে কী বোঝায়- দ্য টাইমসের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, এটা সবকিছু। এই ধর্ম আমাকে পরিবর্তন করেছে, জীবনের অনেক কিছু আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি।

আমার ধারণা এটা আমার ভেতরে আরো বেশি শান্তি নিয়ে এসেছে। আমার জীবনে এটা একটা ভালো পরিবর্তন। ইসলামকে প্রত্যেকে

যেভাবে দেখে-স”ন্ত্রা”স- ইসলাম সেরকম নয়। মিডিয়াতে আমরা যা শুনি সেটা ভিন্ন বিষয়। এটা খুব সুন্দর একটি ধর্ম। এ বিষয়ে আপনাকে জানতে হবেপারায় বিয়ে বাতিল করেছেন পাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের অরাইয়া জেলার জামালপুর গ্রামে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

খবরে বলা হয়, জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন সিংহ তার মেয়ে অর্চনার বিয়ে ঠিক করেছিলেন বাঁশি গ্রামের শিবমের সঙ্গে। পাত্র উচ্চশিক্ষিত। স্বাভাবিক ভাবেই পাত্রীর পরিবারের পছন্দও হয়ে যায়।

দুই পরিবারের মধ্যে পাকা কথাও হয়ে গিয়েছিল বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে। দিনও স্থির করা হয়েছিল। বিয়ের আগে ‘সগুন’ অনুষ্ঠানে পাত্রকে একটা মোটরবাইকও দেওয়া হয় যৌতুক হিসেবে।

এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু গল্পের মোড় নেয় বিয়ের দিন। বর পোশাকে সেজেগুজে অর্চনার বাড়িতে আত্মীয়দের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন শিবম। তার চোখে চশমা ছিল। সর্বক্ষণই সেটা পরেছিলেন শিবম।

পাত্রী অর্চনা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তখনই তার সন্দেহ হয়, তার হবু বর চোখে ঠিক মতো দেখতে পান না। তখন শিবমকে ডেকে তার চোখের পরীক্ষা নিতে বসেন অর্চনা। চশমা ছাড়া তাকে একটা খবরের কাগজ পড়তে দেওয়া হয়।

শিবম খালি চোখে সেই লেখা পড়তে ব্যর্থ হন। তখনই অর্চনা তার পরিবারকে জানিয়ে দেন, এ বিয়ে করতে তিনি রাজি নন। ফলে ছাদনাতলায় বসার আগেই বিয়ে ভেস্তে যায়।

অর্চনার বাবা অর্জুনের দাবি, আমাদের কোনো ধারণা ছিল না যে পাত্রের দৃষ্টিশক্তি এত খারাপ। মেয়ে বিষয়টা বুঝতে পেরেই বিয়ে বাতিল করেছে।

এর পরই অর্চনার পরিবার শিবমের পরিবারকে দেওয়া টাকা, গাড়ি সব ফেরত দেওয়া দাবি জানান। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠানের জন্য যাবতীয় খরচও দিতে হবে বলে দাবি তোলেন তারা। শিবমের পরিবার তা দিতে অস্বীকার করলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন অর্চনার পরিবার।
ছিলেন তিনি খ্রিস্টধর্মের প্রচারক। ইসলাম ও কুরআনের ভুল ধরতে গিয়ে অবশেষে নিজেই গ্রহন করলেন ইসলাম। ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করে এমনই পবিত্রতা ও শান্তি পেয়েছেন আমিনা এসিলমির মতো পশ্চিমা নাগরিকরা।

এ্যামি এওয়ার্ড প্রাপ্ত সাংবাদিক আমিনা এসিলমির জন্ম ১৯৪৫ সালের ৫ মার্চ আমেরিকার ওকলাহামায়।

তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারক। তিনি মনে করতেন, ইসলাম একটি কৃত্রিম ধর্ম এবং মুসলমানেরা হল অনুন্নত ও পশ্চাদপদ একটি জাতি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নতুন টার্মের ক্লাশে ভর্তি হবার সময় কম্পিউটারে নিবন্ধনের একটি ভুল তার জীবনের মোড় পুরোপুরি বদলে দেয়।

এরপর থেকে তিনি বিশ্ব মুসলিম নারী সমাজের সভানেত্রী হিসেবে মুসলিম মহিলাদের অধিকার রক্ষার কাজ করেছেন। ২০০৯ সালে জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে প্রকাশিত রয়াল ইসলামিক স্ট্র্যাট্যাজিক স্টাডিজে প্রকাশিত ৫০০ প্রভাবশালী মুসলিমের নামের তালিকায় তার নাম স্থান পায়।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মার্কিন নও-মুসলিম আমিনা এসিলমির জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায়। এক সময়ের খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারক এই নারী আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষের মনে জ্বালাতে পেরেছেন ইসলামের আলোর শিখা।

তিনি বলেছেন, ইসলাম আমার হৃদয়ের স্পন্দন ও আমার শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত রক্তধারা এবং আমার সমস্ত প্রেরণার উৎস। এ ধর্মের সুবাদে আমার জীবন হয়েছে অপরূপ সুন্দর ও অর্থপূর্ণ। ইসলাম ছাড়া আমি কিছুই নই।

আমিনা এসিলমি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নতুন টার্মের ক্লাশে ভর্তি হওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে গিয়ে একটি ভুল বিষয়ের ক্লাশে ভর্তি হন। কিন্তু সে সময় শহরের বাইরে থাকায় তিনি তার এই ভুল বুঝতে পারেননি। পরে যখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন জানতে পারেন, এই বিষয়ের ক্লাশে যোগ দেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আর ওই ক্লাশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ছিলেন আরব মুসলমান।

যদিও আমিনা এসিলমি আরব মুসলমানদের ঘৃণা করতেন, কিন্তু বৃত্তির অর্থ বাঁচানোর জন্য তাদের সহপাঠী হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না । এ অবস্থায় তার মন খুব খারাপ হয়ে পড়ে। কিন্তু তার স্বামী যখন বললেন, হয়তো স্রষ্টা এটাই চেয়েছিলেন এবং তিনি হয়তো তোমাকে আরব মুসলমানদের মধ্যে খ্রিস্ট ধর্ম প্রচারের জন্য মনোনীত করেছেন। তখন খৃস্ট ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই ক্লাশে গেলেন।

বিশ্ববিদ্যালের মুসলিম সহপাঠীদের সাথে যোগাযোগ হলেই নানা অজুহাতে তাদের কাছে খ্রিস্ট ধর্মের দাওয়াত দিতেন। তিনি তাদের

বলতেন, ঈসা মাসিহ’র অনুসরণের মাধ্যমে তারা যেন নিজেদের মুক্তি নিশ্চিত করেন। কারণ, ঈসা মাসিহ মানুষকে মুক্তি দেয়ার জন্যই নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। আরব মুসলিম শিক্ষার্থীরাও বেশ ভদ্রতা ও সম্মান দেখিয়ে আমিনার কথা শুনতেন। কিন্তু তাদের মধ্যে এইসব কথার কোনো প্রভাব পড়ত না।

এ অবস্থায় আমিনা ভিন্ন পথ ধরতে বাধ্য হন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন-
আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, মুসলমানদের বই-পুস্তক দিয়েই তাদের কাছে এ ধর্মের ভুল চিন্তা-বিশ্বাস প্রমাণ করব। এই উদ্দেশ্যে আমার বন্ধুদের বললাম, তারা যেন আমার জন্য পবিত্র কুরআনের একটি কপিসহ কিছু ইসলামী বই নিয়ে আসেন, যাতে এটা দেখানো যায় যে, ইসলাম ধর্ম একটি মিথ্যা ধর্ম এবং তাদের নবীও আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ নয়।

এভাবে আমিনা বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া পবিত্র কুরআন পড়া শুরু করেন। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে পাওয়া দুটি ইসলামী বইও পড়েন তিনি। এ সময় তিনি ইসলামী বই-পুস্তক পড়ায় এত গভীরভাবে নিমজ্জিত হন যে, দেড় বছরের মধ্যে ১৫টি ইসলামী বই পড়েন এবং পবিত্র কুরআন দু’বার পড়া শেষ করেন। চিন্তাশীল হয়ে উঠা আমিনা বদলে যেতে থাকেন।

ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনা করতে গেলে বিশেষ ঘটনা ঘটবে এমনকি আমার প্রাত্যহিক জীবন-ধারাও বদলে যাবে। সে সময় এটা কল্পনাও করতে পারিনি যে, খুব শিগগিরই আমার হৃদয়ে প্রশান্তি আসবে ও ঘুমিয়ে থাকা ঈমান নিয়ে ইসলামী বিশ্বের সৌভাগ্যের আকাশে উড়ে বেড়াব।

এর পরের ঘটনা বলতে গিয়ে আমিনা বলেছেন, আমার আচরণে কিছু পরিবর্তন এলেও নিজেকে তখনো খ্রিস্টানই মনে করতাম। একদিন একদল মুসলমানের সাথে সংলাপের সময় আমি যতই তাদের প্রশ্ন করছিলাম, তারা অত্যন্ত দৃঢ়তা ও দক্ষতার সাথে তার জবাব দিচ্ছিলেন।

পবিত্র কুরআন সম্পর্কে আমার অদ্ভূত সব মন্তব্য ও বক্তব্যের জন্য তারা আমাকে একটুও পরিহাস করেন নি। এমনকি ইসলাম সম্পর্কে আমার তীব্র বক্তব্য শুনেও তারা মোটেও দুঃখিত হননি। তারা বলতেন, জ্ঞান মুসলমানের হারানো সম্পদ। আর প্রশ্ন হলো জ্ঞান অর্জনের একটি পথ। তারা যখন চলে গেলেন মনে হল আমার ভিতরে যেন কিছু একটা ঘটে গেছে