একই পরিবারের ৫ সদস্যের ইসলাম গ্রহণ

710

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হিন্দু

ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের ৫ সদস্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে

ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদে তারা স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্মগ্রহণ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

জানা গেছে, ভাটেরা ইউনিয়নের মাইজগাঁও কলোনীতে বসবাসরত নিতাই দাস (৫০) ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সপরিবারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে আগ্রহী হন।

বিষয়টি তিনি ভাটেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানালে

চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম তাদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের উদ্যোগ নেন। রোববার রাতে ইউনিয়ন পরিষদেই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র কালিমা পড়ে নিতাই দাসের পরিবারের ৫ সদস্য ইসলাম গ্রহণ করেন।

ধর্মান্তরিত হওয়ার পর নিতাই দাসের নাম পরিবর্তন করে ইব্রাহিম, স্ত্রীর নাম রহিমা, ছেলের নাম ইসমাইল এবং মেয়ের নাম কুলছুমা ও ফাতেমা রাখা হয়।

এ ব্যাপারে ভাটেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী পরিবারটি বর্তমানে মুসলমানদের

সাহায্য ও সহযোগিতা নিরাপদে আছে। ইসলাম ধর্ম গ্রহণকালে তাদের কাপড় চোপড়সহ তাৎক্ষণিক খরচাদির ব্যবস্থা আমরা করেছি।ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে উঠেছি। ছুটি কাটানো ছাড়া ধর্ম আমাদের জীবনের বিশেষ কিছু ছিল না।

ফ্রান্সে ধর্ম একটি ব্যক্তিগত বিষয়। মাধ্যমিক স্কুলে একটি মুসলিম মেয়ে আমার সহপাঠী ছিল।তাঁর নাম ছিল মারয়াম। তার সঙ্গে কেউ বন্ধুত্ব করতে রাজি ছিল না। আমি তাঁর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলাম।

আমার মা-বাবা বলেছিলেন সবার প্রতি সহানুভূতিশীল হতে—সে যে বর্ণেরই হোক এবং যেখান থেকেই আসুক। তাই আমি তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্বের সিদ্ধান্ত নিলাম।

মনে পড়ে, মারিয়াম ছিল ব্যক্তিত্ববান এবং অঙ্ক করার সময় সমস্যায় পড়লে সে আমাকে সাহায্য করত। সপ্তাহে দুইবার আমি ও মারিয়াম আমাদের বাড়িতে লেখাপড়া করতাম।

একদিন কোনো কারণে আমাদের বাড়িতে পড়া সম্ভব ছিল না। সে আমাকে তাদের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাল। আমি আগে কখনো তাদের বাড়ি যাইনি। তার মায়ের সঙ্গে দেখা হবে—এই ভাবনায় আমার ভেতর উত্তেজনা অনুভব করছিলাম। তখন আমার বয়স ১৫ বছর।

তারা ছোট একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকত এবং মারিয়ামের নিজস্ব কোনো বেডরুম ছিল না। আমরা লিভিংরুমেই পড়তে বসলাম। তার মা ছিলেন খুবই বন্ধুসুলভ। তিনি আমাদের জন্য খাবার তৈরি করলেন। আমরা যখন পড়ছিলাম, মারিয়ামের মা তখন রুমের অন্য পাশে বসে একটি বই পড়ছিলেন। যদিও তিনি নিচু স্বরে পড়ার চেষ্টা করছিলেন, তবু আমি তাঁর চমৎকার সুর শুনতে পাচ্ছিলাম।

মারিয়ামকে জিজ্ঞেস করলাম, তার মা কী করছেন। সে উত্তর দিল, মা মুসলমানের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন পাঠ করছেন। আমি বিস্মিত হলাম। কেননা আমি কখনো এভাবে কাউকে বাইবেল পাঠ করতে দেখিনি। মারিয়ামের মাকে বললাম, আপনি আমাদের কাছে বসুন এবং কোরআন পাঠ করে শোনান। যদিও আমি একটি শব্দও বুঝিনি, তবু তাঁর কোরআন পাঠে আনন্দ পেলাম এবং তা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেল।

সেদিনের পর আমি বারবার মারিয়ামের বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেছি, যেন তার মায়ের কাছ থেকে কোরআন তিলাওয়াত শুনতে পারি। কোরআন শুনতে শুনতে একপর্যায়ে আমি তাঁর ধর্ম সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি ইসলামের পাঁচটি মূলস্তম্ভ সম্পর্কে জানালেন। তিনি প্রতিদিন পাঁচবার স্রষ্টার প্রার্থনা করেন শুনে আমি বিস্মিত হলাম। আমি তাঁর প্রার্থনা (ইবাদত) দেখার আবেদন করলাম এবং তিনি তা অনুমোদন করলেন। তাঁর প্রার্থনা, স্রষ্টার সামনে তাঁকে সিজদাবনত দেখে ইসলামের প্রতি আমার ভক্তি ও ভালোবাসা তৈরি হলো।

একদিন আমি বললাম, আমি কি আপনার সঙ্গে প্রার্থনা করতে পারি? তিনি আমাকে মুসলিম হতে না বলে তাঁর সঙ্গে প্রার্থনা করার আহ্বান জানালেন। আমি, মারিয়াম ও তার মা লিভিংরুমে একসঙ্গে প্রার্থনা করলাম। তখন আমার বয়স ১৬ বছর। ইসলাম গ্রহণের আগেই আমি ইসলামী প্রার্থনায় (নামাজ, মোনাজাত ইত্যাদি) অভ্যস্ত হয়ে গেলাম। তবে আমি পরিবার নিয়ে চিন্তিত ছিলাম। আমার ভয় ছিল, তারা এটা অনুমোদন করবে না। মারিয়াম ও তার মা আমাকে কখনো ইসলাম গ্রহণের জন্য চাপ দেননি।

হাই স্কুল শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য আমি প্যারিসে যাই। এটা ছিল আমার জীবন বদলে দেওয়ার অবারিত সুযোগ। আমি বিষয় হিসেবে ইতিহাস ও আরবি ভাষা নির্বাচন করলাম। কারণ আমি কোরআন সম্পর্কে জানতে চাই। ইসলাম সম্পর্কে আমার আগ্রহ বাড়ছিল। ইসলাম সম্পর্কে পড়তে শুরু করলাম এবং প্রার্থনার অভ্যাস অব্যাহত থাকল।

ইসলাম সম্পর্কে যত জানছিলাম, ইসলাম গ্রহণের আগ্রহ তত বাড়ছিল। মারিয়ামের মায়ের প্রথম তিলাওয়াত শোনার ১০ বছর পর আমি ইসলাম গ্রহণ করি। ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নামও মারয়াম রাখি। পরিবারকে ইসলাম গ্রহণের কথা জানালে তারা ব্যথিত হয়। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বহাল রাখতে এবং তাদের ভুল ভাঙাতে আমার দীর্ঘ সময় লাগে।