২ বছর ধরে হাসপাতালে প্রবাসী, পরিচয় দিয়ে দেশে আনছে না নিজের পরিবার

425

বাস্তবের নির্মমতা কখনও গল্প সিনেমাকেও হার মানায়। মুন্সিগঞ্জের রুহুল আমিনের ক্ষেত্রেও ঘটছে তেমনই নির্ম’মতা। দু’বছর ধরে সৌদি আরবের হাসপাতালে আশ্রিত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন রুহুল আমিন। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে হাসপাতাল রুহুল আমিনকে দু’বছর ধরে রাখছে এবং চিকিৎসা দিচ্ছে! এইটুকুকে যদি রুহুল আমিনের সুপ্রসন্ন ভাগ্য বলা যায়, ঠিক বিপরীতেই তার মত দু’র্ভাগাও যেন জগতে খুব বেশি নেই। তার নিজের পরিবারই তাকে স্বীকার করছে না। দেশে গ্রহণ করতেn চাইছে না! এ নির্মমতা কি সিনেগল্পকেও হার মানায় না?

মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার উত্তর কামার গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের সন্তান রুহুল আমিন। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ করে পরিবারের সুখের জন্য কাজ করলেও, অসুস্থ রুহুল আমিন পাচ্ছেন না পরিবারের কোন সহানুভূতি! ব্রেন স্ট্রো’ক করে রুহুল আমিনের আশ্রয় হয় সৌদি আরবের হাসপাতালে। ক’রো’নার পূর্ববর্তী সময়ে তিনি দাম্মাম সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ক’রো’না পরিস্থিতি ম’হামা’রিতে রূপ নিলে তাকে রাফায়া শহরের ক্বারাইয়া উলায়া হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদের তত্বাবধানে একাধিকবার তাকে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দেশের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় বারবার, দুঃখ’জনকভাবে রুহুল আমিনকে গ্রহণ করতে এগিয়ে আসেনি পরিবার!

দূতাবাস কর্মকর্তাগণ মানবিক কারণে হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ র’ক্ষা করে চলেছেন। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রুহুল আমিনকে দেশে পাঠিয়ে দিতে। এয়ারপোর্টে রুহুল আমিনকে গ্রহণ করার মত পরিবারের কোন সদস্যকে পেতেই বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন দূতাবাস কর্মকর্তাগণ। রুহুল
আমিনের পরিচিত এক সূত্রে জানা যায়, সুস্থ থাকাকালীন রুহুল আমিনের আর্থিক লেনদেনে পরিবার খুশী ছিল না! সূত্রমতে, রুহুল আমিন সদাচার করেনি পরিবারের সঙ্গে, ভু’ক্তভো’গী পরিবার তাই আজ আর রুহুল আমিনকে স্বীকার করতে রাজি নয়!

সূত্রের কথা সত্য ধরে নিয়েও বলা যায়, গু’রুতর অসুস্থ মানুষটি যদি অতীতে ভুল করেও থাকে, এই জীবন সায়াহ্নে পরিবারের কাছ থেকেআরেকটু মানবিকতা এবং সহানুভূতি তিনি পেতেই পারেন। প্রবাসে রুহুল আমিনের আয়ের অর্থের খানিকটাও কী পরিবার ভোগ করেনি কখনও? রিয়াদ দূতাবাসের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে, রুহুল আমিনকে গ্রহণ করার মত কোন আত্মীয় পরিজন যদি থেকে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে নিচের নাম্বারে যোগাযোগ করুন: মোহাম্মদ ফয়সাল, আইন সহকারী, 00966568301414আন্তর্জাতিক ফ্লাইট (দূরপাল্লা) পরিচালনায় একচেটিয়া ব্যবসা করে আসছে মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এতে ভাগ বসাতে নতুন একটি এয়ারলাইন্স চালুর পরিকল্পনা করছে অঞ্চলটির আরেক সম্পদশালী প্রতিযোগী সৌদি আরব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের দুই জন ঘনি’ষ্ট কর্মকর্তা।
অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ২০১৭ সালে ‘ক্ষ’মতা দখলের’ পর যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান তার দেশকে তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের করে আনতে চাইছেন। এ জন্য শিল্পোৎপাদন ও সেবা খাতভিত্তিক অর্থনৈতিক তৎপরতা জো’রদার করেছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি যাত্রীসেবা ও পর্যটন খাত শক্তিশালী করতে নতুন এয়ারলাইন্স চালুর বিষয়টি জানান যুবরাজ। এর প্রাথমিক মূলধন পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) থেকে যোগান দেয়ার কথাও বলা হয়, বলছেন ওই দুই ব্যক্তি।

দেশটির রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রস্তাবিত এই এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটগুলো সরাসরি ও কানেক্টিংভাবে পরিচালিত হবে সারা বিশ্বে। সে হিসেবে এটি হবে সৌদি ষষ্ঠ সরকারি বিমানসেবা প্রতিষ্ঠান। এমন সময় এই সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসলো, যখন ক’রো’নাকালে ফ্লাইট পরিষেবা থমকে আছে। খবরে বলা হয়, দূরপাল্লার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে খ্যাতির শীর্ষে রয়েছে আমিরাতের সরকারি সংস্থা এমিরেটস। একইভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে টে’ক্কা দিতে প্রতিযোগিতা করছে কাতার এয়ারওয়েজ। তবে এ ক্ষেত্রে ধারে কাছেও নেই রিয়াদের সৌদিয়া এয়ারলাইন্স।

এদিকে, ম’হামা’রি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে নিষেধা’জ্ঞা দিয়েছে বা দিচ্ছে অসংখ্য দেশ। এতে বিপুল আর্থিক ক্ষ’তির মুখে পড়েছে এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজ। কেবল এমিরেটসই জানিয়েছে, ২০২০ সালে তাদের ক্ষ’তি হয়েছে প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার। পরিস্থিতির মোকাবেলায় ক্ষ’তিগ্রস্ত বিমান ও জাহাজসেবা খাত ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এ জন্য ৫ বছর মেয়াদী দীর্ঘ পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে আবুধাবি। অন্যদিকে, কাতার এয়ারওয়েজ তাদের ক্ষ’তির অংক প্রকাশ না করলেও ব্যাপক আর্থিক ক্ষ’তির শি’কার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এমন সময়ে সৌদি আরবের নতুন এয়ারলাইন্স চালুর ঘোষণাটা বেশ তাৎপর্যপূণ। কেননা, আমিরাত ও কাতারের এই লড়বড়ে অবস্থার সুযোগ নিতে চাইছে সৌদি আরব। এ বিষয়ে কেবল পরিবল্পনা নয়, অনেক দূর এগিয়েছে দেশটি। আরব গালফ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ রবার্ট মোগিলেনিকি বলেন, আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো পরস্পর যু’দ্ধে লি’প্ত থাকতো। কিন্তু ইদানিং তারা বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। এতে করে অঞ্চলটিতে আবারো অস্থিতিশীলতার আশ’ঙ্কা করা হচ্ছে।