ছাত্রলীগের সম্পাদক কট্টর হিন্দুত্ববাদি কে এই লেখক ভট্টাচার্য?

534

গত ১৫ই সেপ্টেম্বর অনলাইন নিউজ পোর্টাল সুবহে সাদিকে ইসকনি লাল সুতা হাতে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কট্টর হিন্দুত্ববাদি কে এই লেখক ভট্টাচার্য? শিরনামে প্রকাশিত একটি নিউজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, এছাড়াও সেখানে অনেকে মন্তব্য করেন ছাত্রলীগের এই সাধারণ সম্পাদক উগ্র হিন্দুত্ববাদি সংগঠন ইস্কনেরও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। এই খবর ভাইরাল হলে বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি করে লেখক ভট্টাচার্য বলেছে, ছাত্রলীগ ছাড়া আমি অন্যকোনো সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নই। কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় কোনো সংগঠনের সঙ্গেও নয়।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সে একথা বলে।

ইস্কন কি? জানতে চাইলে লেখক ভট্টাচার্য বলে, ইস্কন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের একটি সংগঠন। তবে এই সংগঠনের সঙ্গে আমার কোন ধরনের সম্পর্ক নেই। ফেসবুকে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে ছাত্রলীগের সম্পর্ক কেমন হবে জানতে চাইলে সে বলে, সকল সংগঠনের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে যারা উগ্রবাদী ও স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখার প্রশ্নই আসে না।

তবে বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং ছাত্রলীগের অধিকাংশ সদস্য অনেক প্র্যাকটিসিং মুসলিম ফ্যামিলি থেকেই এসেছেন। কিন্তু গঠনতন্ত্র অনুসারে, ছাত্রলীগকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রগতিশীল সংগঠন হিসেবে ধরা হয়। এই গঠনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে অনেক মুসলিম ছাত্রলীগ সদস্যকেই তাদের ধর্মীয় পরিচয়ে ভাটা দিতে বলা হয়, কাটছাট করা বলা হয় তাদের ধর্মীয় আচরণেও। আমার জানা মতে, অনেক ছাত্রলীগ সদস্যকে লুকিয়ে ধর্ম পালন করতে হয়। এমনকি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত পেলেও প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারেন না সেই ‘ধর্মনিরপেক্ষতা ও প্রগতিশীলতা’ খোলস ঠিক রাখতে।

কিন্তু তাদের কষ্টটা তখন হয়, যখন দেখে ডান হাতে লাল সুতা পরিহিত এক হিন্দুযোদ্ধা সেই ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়।

তাদের কষ্টটা তখন বৃদ্ধি পায়, যখন দেখে- একজন নেতা উগ্রহিন্দুত্ববাদের সিল প্রকাশ্যে নিয়ে ঘুড়তে পারে, তখন প্রগতিশীলতা আর ধর্মনিরপেক্ষতার সমস্যা হয় না। কিন্তু সাধারণ সদস্য হলেও মুসলিম হওয়ার কারণে তাকে তার ধর্মীয় আচরণে বিধি টানতে বলা হয়। মুসলিম পরিচয়ের কারণে কখন শিবির ট্যাগ খায়, সেই ভয়ে থাকতে হয়। এটা কি তবে সমান অধিকার হলো??

অনেকে হয়ত বলতে পারেন-
“একটা দুর্ঘটনার মত ঘটে গেছে। পদের ধারবাহিকতা অনুসারেই তাকে পদ দেয়া হয়েছে।”

হতে পারে। তবে ছাত্রলীগ রাষ্ট্রীয় নিয়মতান্ত্রিক কোন অংশ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদগুলোর একটি হচ্ছে প্রধান বিচারপতির পদ। ইসকনের সাথে সম্পর্কযুক্ত এসকে সিনহাকে কয়েকজন সিনিয়র বিচারপতিকে ডিঙ্গিয়ে প্রধান বিচারপতি করেছিলো এই আওয়ামী সরকারই।

যেই আওয়ামীলীগ প্রধানবিচারপতির পদায়ন করতে রাষ্ট্রীয় নিয়মতন্ত্র ভাঙ্গতে পারে, সে তার ছাত্র সংগঠনের পদের ক্ষেত্রে নিয়মতন্ত্র ভাঙ্গতে পারবে না, এটা মানতে সত্যিই কষ্ট হয়।