এই মাত্র পাওয়া নাসিরের ভয়ে এবার আইপিএল খেলতে যাচ্ছেন না সাকিব আল হাসান

1051

এই দেশে সাকিব আল হাসান ছাড়া আর কেউ সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা নেন না! সাকিব ছাড়া বাকি সবাই দেশপ্রেমিক! তাই সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে ছুটি নেন কিংবা আইপিএল; সবসময়ই তাকে গালি খেতে হয়। বিসিবিও তাদের হতাশার কথা জানায়। আমি যদি উল্টো প্রশ্ন তুলি গোটা জাতি মিলে আমরা কেন আরেকজন সাকিব বানাতে পারি না? বিসিবি করেটা কী? কেন এই দেশ থেকে সাকিব-তামিম-মাশরাফির মতো ক্রিকেটাররা মাঝে মধ্যেই তৈরি হয় না! তরুণ মেধাবী ক্রিকেটার পাওয়ার জন্য বিসিবি গত এক দশকে ঠিক কী করেছে?

সাকিবের আইপিএল খেলার সিদ্ধান্তে বিসিবি সভাপতি হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, সাকিব নাকি আরও দুতিন বছর আগেই টেস্ট খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। জোর করেই তাকে এতোদিন রাখা হয়েছে। আচ্ছা কেন জোর করে রেখেছেন? কেন সাকিবের বিকল্প তৈরি করতে পারেন না? আমি যদি বলি সাকিব-তামিম আর মাশরাফি এই তিনজন বাংলাদেশ ক্রিকেটকে যা দিয়েছেন গোটা বিসিবি মিলে কী এর কিয়দাংশ দিতে পেরেছে দেশকে? এই যে ২০২৩ সালে পরবর্তী বিশ্বকাপ বিসিবির কী আলাদা কোন প্রস্তুতি আছে? এই যে আমরা গোটা জাতি কথায় কথায় সাকিবের সমালোচনা করি তা দেশের ১৭ কোটি মানুষ মিলে একজন সাকিব বানান না?

আফসোস লাগে গোটা জাতির দেশপ্রেম যখন প্রশ্নবিদ্ধ তখন জবাব দিতে হয় শুধু সাকিবকে। এই যে হার্শা ভোগল লিখেছেন, অনেকেই দেশের হয়ে টেস্ট খেলার চেয়ে আইপিএল খেলার দিকে ঝুঁকছেন। সেটাই এখন বাস্তবতা কাজেই সেটাকে অস্বীকার করবেন কী করে? আগামী দুই বছরে যেহেতু দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং একটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে কাজেই সাকিবের সিদ্ধান্তকে আমি সমর্থন করি। আমি মনে করি তিনি টেস্টের চেয়ে টি-টোয়েন্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

সাকিবের জন্য আমার শুভ কামনা। আমি বরং বিসিবিকে বলবো আরও তরুণ মেধাবী ক্রিকেটারদের কী করে ভবিষ্যতে আনা যায় সেই পরিকল্পনা করুন। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে কী হবে বা আজ থেকে দশ বছর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে পারলে সেই পরিকল্পনা করুন। জেলা উপজলোয় যান। তরুণ ক্রিকেটরাদের খুঁজে বের করুন। বিসিবির কারও পকেটবন্দি হওয়ার চেয়ে নিত্য নতুন পরিকল্পনা থাকা উচিত বলে মনে করি। শুভ কামনা সবার জন্য।