ক্ষমতায় গেলে পিলখানা হত্যাকান্ডের আসল অপরাধীদের বিচার করবে বিএনপি ‘

692

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন , ”বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখান সদর দফতরে সেনা হত্যা দিবসটিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষনার দাবি করছে। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলে ২৫ ফেব্রুয়ারীকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষনা করবে।”

আজ দুপুরে নয়াপল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেছেন,”বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে পিলখানায় নৃশংস হত্যাকান্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে পুনর্বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। তখন ঘটনার নেপথ্যের নায়করা রেহায় পাবেন না।”

রিজভী বলেন, দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও জবাব মেলেনি এ হত্যাকান্ড সম্পর্কিত অনেক প্রশ্নের। গত ১২ বছর যাবত প্রতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারী সেনা হত্যাযজ্ঞের দিনটি কিছু সাধারণ কর্মসূচির মাধ্যমে পার হয়ে যায়। এই হত্যাকা-ের যে তদন্তগুলো হয়েছিল, এর পূর্ণাঙ্গ কোনো তদন্ত এখনো জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়নি। বিশেষ করে সেনাবাহিনী যে তদন্ত করেছিল, সেই তদন্ত এখনো আলোর মুখ দেখেনি।

ফলে, স্বাভাবিকভাবে জাতির সামনে প্রশ্ন থেকেই গেছে এই ভয়াবহ রক্তাক্ত ঘটনার পেছনে মূল কারা ছিল, পরিকল্পনাকারী কারা ছিল, কারা লাভবান হয়েছে ? এগুলো রহস্যজনকভাবেই উদঘাটন করা হয়নি। পূর্ব পরিকল্পিত পিলখানা হত্যাকা-ের ঘটনায় অনেকের সাজা হয়েছে, আবার অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের অনেকের জড়িত থাকার কথা শোনা গেলেও সেগুলোকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি এখনও রহস্যের কুয়াশায় ঢাকা। বাংলাদেশের জনগণ বিশ^াস করে-এই মর্মান্তিক হত্যাযজ্ঞের ঘটনার পর্দার পেছনের কুচক্রীরা অধরাই থেকে গেছে।

পিলখানা সেনা হত্যাকান্ডে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে বলেই জনগণ বিশ^াস করে। ক্ষমতার নেশায় আচ্ছন্ন অপরাধপ্রবণ একটি দল আওয়ামী লীগ। এরা মসনদ আঁকড়ে রাখার জন্য প্রয়োজনে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করতে দ্বিধা করে না। এদের একমাত্র সাধনা ক্ষমতা লাভের আগে অথবা পরে কোন সময়েই তারা ন্যায়নীতির নির্দেশ গ্রাহ্য করে না।

পিলখানার রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব খর্ব হয়ে এসেছে। উদ্দেশ্য-সচেতনভাবেই পিলখানার সেনা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। আঁটঘাট বেঁধেই ষড়যন্ত্রকারীরা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।