সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি শামা ওবায়েদ

423

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে বিএনপি অংশ নেবে কি-না এবং বিএনপির কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘হ্যাঁ অবশ্যই, আজই প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমরা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জনগণ ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরব। কারণ, যে জাতি তার প্রকৃত ইতিহাস জানে না, তারা টেকসই ও শক্তিশালী জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের প্রস্তাবের মধ্যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নির্বিঘ্নে পালন করা যাবে কি না জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটি তাদের এখতিয়ার নেই, এটা তাদের এখতিয়ারে পড়ে না। শুধু জিয়াউর রহমান নয়, যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে খেতাব পেয়েছেন, তাঁরা কারো দয়ায় পাননি। এটা তাঁরা রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে পেয়েছেন।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

খন্দকার মোশাররফ আরো বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না। তারা এটা থেকে সরে আসবে। আর সামনে এ বিষয়ে আমাদের দলের বক্তব্য আসবে।’

সরকারের সমালোচনা করে মোশাররফ বলেন, ‘এই সরকার দেশে গণতন্ত্রের কথা বললেও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। আমাদের দলের চেয়ারপারসন ৯ বছর স্বৈরাচারের সঙ্গে লড়াই করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন।’

সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বড় মহাসমাবেশ বিএনপি সফলভাবে করতে পারবে কি না এবং তা সফল করতে বিএনপি কী পদক্ষেপ নিয়েছে জানতে চাইলে মোশাররফ বলেন, ‘আমরা আশা করছি সুবর্ণ জয়ন্তীতে সমাবেশ ও অনুষ্ঠান সুচারুরূপে ও সুন্দরভাবে পালন করতে পারব। পুলিশ প্রধানের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশা করি, সরকারও আমাদের সহযোগিতা করবে। কেউ যদি সুবর্ণ জয়ন্তীর মতো প্রোগ্রামে বাধা দেয়, তাহলে জনগণ তাদের বিষয় ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তাদের অবস্থান বুঝতে পারবে।’

খন্দকার মোশাররফ আরো বলেন, ‘সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে বিএনপি ছয় মাস আগে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এটি উপলক্ষে ২০টি বিষয়ভিত্তিক কমিটিসহ অনেকগুলো কমিটি করা হয়েছে। বিএনপি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল, মুক্তিযোদ্ধাদের দল বলেই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে গুরুত্ব দিয়ে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও দেশের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই মূলত আমাদের এই ব্যাপক আয়োজন। গত ১২ বছর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে, এমন হেন কোনো চেষ্টা নেই, যেটা করা হচ্ছে না। এমনকী যিনি প্রথম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন, তাঁকে নিয়ে বলা হচ্ছে তিনি পাকিস্তানের চর বলে কুৎসা রটাচ্ছেন। জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের অপচেষ্টা হলো মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা, মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করা