‘আমি বাঁচতে চাই, যুবলীগ নেতা আজমীর শেখ আমাকে এসিড মারার হুমকি দিয়েছে’

335

আমি বাঁচতে চাই’ এমন করুন আকুতি নিয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আজমীর শেখের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সুবর্ণা নামের এক ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, ‘আজমীর শেখ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ ও মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন। আজমীর শেখ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বারা আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তার দলের ক্ষমতার কাছে আমরা খুব অসহায়।’

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সফিউদ্দিন আহম্মেদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ভুক্তেভোগী ও তার পরিবার।

এ সময় ভুক্তভোগী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আজমীর শেখের পাশবিক নির্যাতন ও অত্যাচার থেকে বাঁচতে চাই! তার ভাই প্রিন্স আমাকে পছন্দ করতেন। প্রিন্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তার বড় ভাই আজমীর শেখ ও তার দুই বোনের কাছে বিচার দেই। এ ঘটনার কয়েক দিন পরে আজমীর শেখের সাথে তার ভাই প্রিন্সের সমস্যা হলে তার রেশ ধরে প্রিন্স শেখ আত্মহত্যা করেন। এই আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে ২০ সালের ১৬ ডিসেম্বরে আমিসহ আমার পরিবারকে আজমীর ও তার ফুপাতো ভাই বিটু ও নান্টু আমাদের মারধর করে আহত করেন। পরে পুলিশ এলে তখন আজমীর শেখের বাবা নিজে সাক্ষী দেন তার ছোট ছেলে প্রিন্স আজমীরের জন্যই মারা যায়। পরে আজমীর দলের ক্ষমতা দেখিয়ে তার ভাইয়ের মৃত্যুর দায় আমার ওপর চাপিয়ে দেয়। ভাই ও বাবাকে করেছে বাড়ি ছাড়া। আমার মা ও আমাকে ৫০ দিন তালাবন্ধভাবে আটক করে রাখেন। ওই ৫০ দিন মুড়ি ও রুটি খেয়ে বেঁচে ছিলাম। কোনো আত্মীয় স্বজন আসতে পারেনি তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কারণে। আমাদের জায়গা দখল করে বাসায় সাইন বোর্ড লাগিয়ে দেন।’

এ সময় সুবর্ণা পরিবার ও স্থানীয়রা আজমীর শেখ, বিটু ও নান্টুর বিরুদ্ধে দর্ষণ, হত্যা ও গুম করার কথা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সুবর্ণার বাবা দুলাল গাজী, মা মিনু বেগম, ভাই সবুজ শেখ ও মামা রেজাউল করিম। সুবর্ণা মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ দেওসার গ্রামের দুলাল গাজীর মেয়ে। তার তিন ভাই ও এক বোন রয়েছে।