বার্নিকেটের গাড়িতে ধাওয়া-হামলায় আ’লীগ -ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ডিবির চার্জশীট

980

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে হওয়া হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পক্ষ থেকে সম্প্রতি স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে।

আসামিরা হলেন- নাইমুল হাসান, ফিরোজ মাহমুদ, মীর আমজাদ হোসেন, মো. সাজু ইসলাম, রাজিবুল ইসলাম রাজু, শহিদুল আলম খান কাজল, তান্না ওরফে তানহা ওরফে মুজাহিদ আজমি তান্না, সিয়াম ও অলি আহমেদ ওরফে জনি। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, বেশ কিছুদিন আগেই চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে। সম্প্রতি আদালতে তা দাখিল করা হয়।

একই ধরনের তথ্য জানিয়ে ডিবির উপকমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, সরকাবিরোধী ষড়যন্ত্রের সন্দেহে ওই হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ৪ আগস্ট রাতে সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের ইকবাল রোডের বাসায় নৈশভোজের দাওয়াতে গিয়ে মার্শা বার্নিকাট এ হামলার শিকার হন। ওই রাতে নৈশভোজের নামে তিনি গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করছিলেন বলে খবর পায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

আনুমানিক রাত ১১টায় ছাত্রলীগের নাইমুল হাসান ওরফে রাসেলের নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি দল ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা মার্শা বার্নিকাটের গাড়ি ধাওয়া করলে রাষ্ট্রদূত দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

উল্লে­খ্য, ঘটনার দিন বদিউলের বাসায় তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট ছাড়াও ড. কামাল হোসেন, তার স্ত্রী হামিদা হোসেন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তখন রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলছিল।

এ সময় সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের বাড়িতেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। দলটি বাড়ির জানালার গ্লাস ভাংচুর করে বদিউল আলম, তার স্ত্রী ও ছেলে মাহবুব মজুমদারকে জীবননাশের হুমকি দেয়। মাহবুবকে ধাক্কা দিয়ে আঘাত করেন। বাড়ির প্রধান গেট ধাক্কাধাক্কি করে, ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা চলে যান।