আমি কখনো ই নেতা ছিলাম না (পর্ব ৭) নিলোফার চৌধুরী মনি

195

নিলোফার চৌধুরী মনি –বিএনপির কর্মী , সাবেক এমপি সবকিছুর উর্ধ্বে—ঃএ দেশের সাধারণ মানুষের ভাবনায় লিখাঃ “সাড়ে সাতটন আতসবাজি! রসিকতা য় রোমান্টিক জাতি!! কি বিচিত্র সেলুকাস!!! “এখন বলতেই হচ্ছে -রোম পুড়ছে আর নীরু বাঁশি ই বাজাচ্ছে! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনাকে আমি স্বীকার করি বা নাই করি কিংবা যতই বিতর্কিত হোন না কেন (?) প্রধানমন্ত্রী র চেয়ার টায় যেহেতু আপনি ই বসেন তাই সম্মান সহ আপনাকে ই বলছিঃ

গোটা পৃথিবী আজ স্তব্ধ করোনা ভাইরাস নিয়ে। দেশপ্রেমিক পৃথিবী বিখ্যাত প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, রাজা রানী,রাজনীতি বিদরা যেখানে হিমসিম খেয়ে যাচ্ছে, তাদের স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত সব বন্ধ করে জনগণের জীবন বাঁচানোর তাগিদে ভর্তুকি দিচ্ছে – অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা সবকিছুতে,সেখানে আঠারো / বিশ কোটির ছোট্ট একটি উন্নয়ন শীল ঘনবসতি দেশের একি অবস্থা!! হ্যাঁ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকেই বলছি-আপনার বাবার এই অস্হির সময়টাতে ই জন্ম শত বার্ষিকী। এটা একটা সন্তানের জন্য খুব আনন্দের, সৌভাগ্যের সত্যি। কিন্তু আপনি কোন সাধারণ মানুষ নন। আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী – হোক মিডনাইট বা অন্য কিছুতে।জনগনের সেবার ব্রত আপনি স্ব-ইচ্ছায় মাথায় তুলে নিয়েছেন।আর আপনার বাবা!

উনি নিজে ও সম্মানীয় এবং রাজনীতি তে বিখ্যাত।
উনার শতবছর আর হাজার বছর মানুষকে জবরদস্তি করে জানাতে হবে না।আর কারো ধার করা আলোতেও চলতে হবে না। তবুও কেন এ মিথ্যে আয়োজন!মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইয়েস আপনাকে ই বলছি – ক্ষমতার চরম একক অপব্যবহারের জন্য তিন বারের প্রধানমন্ত্রী কে দুইবছরের অধিক সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আটকে রেখেছেন। তাতে কি প্রমানিত আপনারা রিস্ক ফ্রী!!সক্রেটিস বলেছিলেন চরম পরাক্রমশালী শাসককে– “আমি চলে যাচ্ছি, আপনি বহাল তবিয়তে আছেন! সময়ই একদিন বলবে কে সঠিক ছিল। ”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হ্যাঁ আপনাকেই বলছি -জনগণের কাছে শুনেছি-আপনি সারারাত নামাজ পড়েন, তাহাজ্জুদ পড়েন,তসবিহ তেলাওয়াত, কুরআন তেলওয়াত করেন,কখনো কখনো ছবিতে ও দেখেছি।
তাই আপনাকে বলছি– মুসলিম ধর্মমতে মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলে তার সমস্ত স্হাবর- অস্থাবর সম্পত্তি তামাদি হয়ে যায় তার জন্য।তখন আর ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী তিনদিন, চল্লিশদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, জন্মবার্ষিকী কোন কাজেই আসে না।সব মৃতব্যাক্তির মত উনিও সমহারে সওয়াব পান।তবে জনগণের কল্যানে খরচ করলে যেমন মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা, স্বাস্হ্য,জরুরী রিকভারী প্রতিষ্ঠান, কোন জনকল্যানে খরচ করলে নির্ধারিত মৃত ব্যাক্তি কিছুটা বেশি সওয়াব পান।অথচ আমরা কতটা বিকৃত ভাবে এসব নিয়ে ই মত্ত থাকি।আমাদের চরম ঝগড়ার শুরুটাও কিন্তু এই জন্ম মৃত্যু বার্ষিকী নিয়েই। ধিক্ আমাদের শতাধিক ধিক্। হ্যাঁ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকেই বলছি –

আপনি তো মায়ের জাতি।আপনি ই পারতেন আপনার সম্মানিত বাবার কথা স্মরণ করে তাঁর কল্যানের জন্য তাঁর জন্য উঠানো টাকা আপনার লোকেরা ই বলাবলি করে কেউ বলে চারশো কোটি, কেউ বলে হাজার কোটি ছাড়িয়েছে আবার কোন কোন আপনার কাছে র মোশতাক আহমদরা চারহাজারকোটি ও বলেন।
আমি বলি সে যাই হোক ও টাকায় আতশবাজি আর ভোগবিলাসী কিংবা লুটের ভাগাভাগি না হয়ে এ গরীব দেশে হতে পারতো হতদরিদ্র সন্তান দের জন্যঃ

* আঠারো কোটি মাস্ক * ডাক্তার দের প্রটেকটিভ পোষাক * সঠিক তথ্য পরীক্ষার কীট * জেলা থানা ওয়ারী সেফ কোয়ারান্টাইন * করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল * আইসিইউ * সিসিইউ ইত্যাদি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হ্যাঁ আপনাকে ই বলছি -উন্নত এবং মানবিক দেশগুলো তে তাদের দিক প্রদর্শক মানুষ গুলোর মৃত্যু কে সম্মান করেন নির্ধারিত দিন বা সময়ে বেশি পরিশ্রম করে বা ভালো কিছু জনকল্যানকর কাজ করে। আর আমারা!আমরা নেগেটিভ প্রতিযোগিতা য় মত্ত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হ্যাঁ আপনাকেই বলছি – আপনি করোনা ভাইরাস কে মোকাবিলা র উদ্দেশ্যে হ্রদয়ে বহু কষ্ট সয়ে অনেক প্রোগ্রাম বাতিল করেছেন শেষপর্যায়ে হলেও।এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ। তবে যদি আর এটুকু করতেন সচেতন প্রকৃত শিক্ষিত সমাজ আপনাকে মনে রাখতোঃ

  1. ডাক্তার, নার্স, আয়াদের পর্যাপ্ত প্রটেকটিভ পোষাক ও মাস্ক এর ব্যবস্হা করা।কারন উনারাই সবচে বেশি অরক্ষিত। উনারা না বাঁচলে মহামারি র কি হবে?
  2. সরকারের সচেতনতা বৃদ্ধি তে সত্য প্রকাশ করা জরুরি। এটা বিশ্ব ছড়িয়ে পড়েছে। সো সরকার রোগের জন্য দায়ী নয়।কিন্তু সত্য গোপন করায় ক্ষতি র মাত্রা যদি চরম আকার ধারণ করে তবে সরকার এর জন্য সিরিয়াস ভাবে দায়ী হবে।
  3. স্কুল কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয় এর মত সরকারি – বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আদালত, বিশেষ করে গার্মেন্টস, সভা,সেমিনার সবকিছু প্রাথমিক ভাবে পনের দিনের বন্ধ ঘোষণা করা।
  4. এয়ারপোর্ট, স্থলবন্দর একই সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা এবং যাত্রী হয়রানি বিশেষ করে আমাদের রেমিট্যান্স এর উৎস প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ করা জরুরি।
  5. কোয়ারান্টাইন এ প্রবাসী দের ওরিয়েন্টেশন এর মাধ্যমে ভালো ব্যাবহার করে রাখা এবং ওঁদের স্বাস্থ্য সম্মত সুষম খাদ্য পরিবেশন করা।রা আমাদের লক্ষী এবং আয়ের সবচে বড় উৎস।
  6. গার্মেন্টস কর্মী দের ছুটি দেয়া এবং ছুটি র অর্থ মালিক পক্ষকে দিতে বাধ্য করা।
  7. সমস্ত হোটেল গুলো বন্ধ করে প্রয়োজনে প্রাইমারি ভাবে হাসপাতালের ব্যাবস্হা করা।
  8. বিভিন্ন এনজিও ক্ষুদ্র ঋন গুলোতে দুতিন মাসের কিস্তি পিছিয়ে দেবার ব্যাবস্হা ও শোধ মওকুফ করা।
  9. কোন ঔষধ খাবার বিশেষ করে মাস্ক,হ্যান্ড সেনিটাইজার,সাবান এসবের দাম বাড়ালে তাদের শাস্তির আওতায় আনা।
  10. ঢাকা উপনির্বাচন সহ চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং সারা বাংলাদেশ এ কোথাও অনুষ্ঠিত নির্বাচন সিইসিকে দিয়ে বন্ধ করা । এতে সবদিক থেকে আপনার ই বেশি ক্ষতি। কেননা জনগণ ভোট দিতে যায়না।৫/১০% যারা ভোট দিতে যায় তারা আপনার ই বাহিনী। ওরা এফেক্ট হোক সেটাও আমরা চাই না। কারণ আমরা মায়ের জাত। সব সন্তান ই আমাদের সন্তান। হোক ভালো কি মন্দ।
  11. জনসচেতনতা বাড়াতে গ্রাম গন্জ থেকে শহর পর্যন্ত পর্যাপ্ত সচেতনতা গ্রহণ করলেই কেবলমাত্র আপনি, আমি, আমরা এ থেকে কিছুটা রেহাই পেতে পারি।