আমরা কেন বিএনপি করি বিস্তারিত নিউজ আশা করি লেখাটা পড়বেন

993

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ১৯৭১ সালে ২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন, এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, সারাবিশ্ব এ ঘোষণা রেকর্ড করেছে সাথে সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তিনি এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদ ২লক্ষ মা-বোনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, বিশ্বে সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ মানচিত্র। তাই…

26 শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস

কেন শহীদ জিয়াউর রহমান যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন…

স্বাধীনতা যুদ্ধের পূর্বে ১৯৬৯সালের পাকিস্তান সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন, এ বিজয় পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মেনে নেননি, ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি, এরই পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশে শুরু হয় মিছিল-মিটিং সমাবেশ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলন। ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বর্তমান সহোরাওয়ার্দী উদ্দ্যান সমাবেশ হয়, সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভাষণ দেন, সমাবেশের পর থেকে শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের সামনে আর আসেনি। অনেক নাটকীয়তা (অনেকে বলেন আত্মসমর্পণ) হন বন্দি।

মুক্তিকামী দিশাহারা জনতাকে সেদিন দিশা দেওয়ার মতো কেউ ছিলনা, বঙ্গবন্ধুর সহচর সবাই চলে যায় আত্মগোপনে, একমাত্র জীবন বাজি রেখে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে তৎকালীন পাকিস্তান আর্মি বাঙালি মেজর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সংবিধানের শপথ ভঙ্গ করে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

স্বাধীনতা লাভের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে আসেন বাংলাদেশের ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
১৯৭৩সালে জাতীয় নির্বাচনে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৩০০আসনের মধ্যে ২৯৩ টি আসন জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করে। ১৯৭৫সালে সব দলকে বিলুপ্ত করে ২৪শে জানুয়ারি একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫সালে ১৫ই আগস্ট মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন (দুই কন্যা দেশের বাইরে ছিলেন) হয় জেল হত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহ মধ্য দিয়ে থমকে যায় বাংলাদেশ। আসে নভেম্বর মাস শত্রুদের টার্গেট হয় শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান, তৎকালীন বিপথগামী সেনা বাহিনী তাকে বন্দী করে, তারই প্রতিবাদে সারাদেশে শুরু হয় সিপাহী জনতার আন্দোলন মুক্ত করে আনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। ইতিহাসে এ দিনটি “বিপ্লব ও সংহতি দিবস” হিসেবে পরিচিত। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাকশালে ডুবন্ত বাংলাদেশের হাল ধরেন জিয়াউর রহমান, মানুষের সমস্ত অধিকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে তুলে ধরেন, মানুষের সঙ্ঘবদ্ধ আর্থসামাজিক বিপ্লব ঘটিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে যায় অনন্য উচ্চতায়।
১৯৭৮ সালে পহেলা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৮১সাল ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে, তিনি শহীদ হন। মৃত্যুকালে শহীদ জিয়া স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দুই সন্তান দেশনায়ক তারেক রহমান , মরহুম আরাফাত রহমান কোকো’কে রেখে যান।

শহীদ জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আবার দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বৈরাচার সরকার তৎকালীন সেনাপ্রধান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ…,

১৯৮২সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র হাল ধরেন।

৯০ই স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে হোসেন মোহাম্মদ এরশাদকে পরাজিত করে দেশে ফিরিয়ে আনে সংসদীয় গণতন্ত্র।

১৯৯১সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
তিনি তিনবারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তার শাসন আমল আপোষহীন আন্দোলন-সংগ্রামে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই হয়ে ওঠেন এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী।

২০০৬ সালে আওয়ামীলীগের আন্দোলনের ফসল এক-এগারোর সরকার, সে সরকার পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান 16 কোটি মানুষের নয়ন মনি তারুণ্যের অহংকার দেশনায়ক তারেক রহমানকে টার্গেট করে খালেদা জিয়া পরিবারের উপর চালায় নির্মম নির্যাতন…
আইনি পর্যায়ে সকল মামলায় জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান দেশের বাইরে যান। মামলা হামলা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশে আসতে দিচ্ছেনা এই অবৈধ সরকার।

২০০৯ সালে এক-এগারোর সরকারকে বৈধতা দিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। সুদূর প্রসারী
কু-পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসার পরপরই ২৫/২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা সাচ্চা দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনী অফিসারদের হত্যা করার মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে এখনো ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আছেন।

২০১৪সালে গণতন্ত্র হত্যা করে বিনা ভোটের সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ সে নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। ভোটের অধিকার আদায়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশব্যাপী আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়…

২০১৮ সালের আটই ফেব্রুয়ারি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুই কোটি টাকার মামলা সাজিয়ে গ্রেপ্তার করে এখনও তিনি গৃহবন্দী।

ইতিহাস যতোটুকু জেনেছি ক্ষমতার জন্য আওয়ামী লীগ মানুষের বিরুদ্ধে সব সময় অবস্থান নিয়েছে, ৩০শে ডিসেম্বর রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে দিনের ভোট রাতে করে আবারও অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত স্বৈরাচারের ভূমিকায়।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারুণ্যের অহংকার দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দেশব্যাপী আন্দোলন চলছে…

অচিরেই স্বৈরাচার মাফিয়া সরকার পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে মানুষ তাদের অধিকারের কথা বলতে পারে, গণতন্ত্রের চর্চা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকে।

বিএনপি দলটি জন্মলগ্ন থেকে মানুষের অধিকারের কথা বলেছে, অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। অাক্রমণ, ষড়যন্ত্রের মধ্যেও দেশ ও মানুষের জন্য লড়ছে, বিএনপি মাটি ও মানুষের দল এইজন্যই অামরা বিএনপি করি।

____
একান্ত ব্যক্তিগত রিচার্জ অনুভূতি
মামিন, কমিল্লা বিএনপি

আপনি ও আপনার অনুভূতি যোগ করুন…