মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছাত্রলীগকে ঘৃণা করে যাব। এখন কেউ আমাকে পছন্দ করুক বা না করুক। তাদের কেউ মৃত্যবরণ করলেও জানাজায় শরীক হবো না বলে শপথ করছি।

1057

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছাত্রলীগকে ঘৃণা করে যাব। এখন কেউ আমাকে পছন্দ করুক বা না করুক। তাদের কেউ মৃত্যবরণ করলেও জানাজায় শরীক হবো না বলে শপথ করছি।

“মুনাফিকদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে তুমি কখনো তাদের জানাজার নামাজ পড়বে না। এবং তাদের কবরের পাশে দাঁড়াবে না”
সূরা: তওবা, আয়াত: ৮৪

যারা হয়রত মুহাম্মদ(সঃ) এর সুন্নত আমাদের গালের দাড়ি ধরে টানাটানি করে। অপমান করা হয় সুন্নতকে। তাদের আমি মুনাফিকই বলব। তারা কখনো ইসলাম ধর্মের অনুসারী হতে পারে না।

যারা লেকচার দিয়ে বেড়াচ্ছেন, অন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান জানাতে। তাদের উদ্দেশ্যে আমার একটা প্রশ্ন। ভারতে মোদির ছবিতে জুতাপেটাসহ করা হয়। ছবিতে আগুন লাগিয়ে আন্দোলন করা হয়। সেখানে স্বাধীন দেশে থেকে, গনতন্ত্রের দেশে থেকে কেন মানুষ প্রতিবাদ করতে পারবে না? কেন গুলি চালানো হবে? বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বন্ধ করে দিয়ে আমাদের অন্তর থেকে ঘৃণা ছাড়া কিছুই পাবেন না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ভারতকে বলেছিল, “আমার দেশ থেকে আপনাদের সৈন্য নিয়ে যান। এক দেশের দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে অন্য দেশের দাসত্ব করতে পারব না।” বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, সেই বঙ্গবন্ধু কন্যা ঘুরে ফিরে সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নিজের দেশের মানুষের বুকের তাজা রক্ত ঝরাতে দ্বিধা বোধ করে না।

বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল বাংলাদেশে এই প্রথম নয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরাও করেছেন। টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হতো। সরাসরি গুলি চালিয়ে মানুষ হত্যা করে এ কেমন ছত্রভঙ্গ করা? ছাত্র লীগের কর্মীরা কী করে বায়তুল মোকাররম, হাটহাজারী মাদ্রাসার মতো পবিত্র স্থানগুলোতে ঢুকে হামলা করতে পারে।
হেমলেট পরে, পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যে ছাত্রলীগ মাঠে নামলো। পুলিশের চোখে সেসব অস্ত্র চোখে পড়ে না? আন্দোলনকারী কারো হাতে তো অস্ত্র ছিল না। এটা কোন দেশে বসবাস করি রে ভাই? দেশ তো লুটেপুটে খাচ্ছিস, মানুষগুলোকেও বাঁচতে দিচ্ছিস না।

ফেরাউন, নমরুদও চিরস্থায়ী ছিল না। তাদেরও ক্ষমতা শেষ হয়েছিল। আপনাদেরও ক্ষমতা শেষ হবে একদিন। বঙ্গবন্ধুকে আমরা মনে রেখেছি ভালোবাসায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেশাকর্মীদের মানুষ মনে রাখবে ঘৃণায়।
আমার ভাবতেই কেমন যেন লাগে। যেসব ছাত্রলীগের কর্মীরা এই কোরআনের পাখিদের উপর হামলা করলো। দাড়ি ধরে সুন্নতের অবমাননা করলো তাদের পরিবারের মানুষ সমাজে হেঁটে বেড়ায় কীভাবে? ওদের বাবা মা রাস্তা দিয়ে হাঁটলে কেউ বলে না? “ঐ যে দেখ ছাত্রলীগের বাপ মা যায়। আমার কাছে তো ছাত্রলীগ একটা গালি।

আমার ফ্রেন্ডলিস্টেও অনেক সরকার দলীয় সমর্থক আছে। তাদের যদি খারাপ লাগে কথাগুলো, আপনারা নিজ দ্বায়িত্বে বের হয়ে যেতে পারেন। আর যদি মনে হয় কথাগুলো যুক্তিযুক্ত তাহলে অন্তত এমন সমর্থন ছেড়ে দিন। যাদের বাঁচতে হবে ঘৃণা ও একদলা থুথু নিয়ে।
আমি কোনো দল করি না। কিন্তু আমি একজন মুসলমান। জন্মের পর কানের কাছে আজান দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে তুমি মুসলমান।
আমি মুসলমান, আমি ছাত্রলীগ না। তাই তোদের মৃত্যুতে কখনো জানাজার নামাজে শরীক হবো না।

মহান স্বাধীনতা দিবসে এমন বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা, একদলা থুথু ও ঘৃণা জানাচ্ছি।