সরকারের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বলি হচ্ছেন নিম্নবিত্তরা!

405

সারাদেশে করোনা ছড়িয়ে দিয়ে এখন কঠোর লকডাউনের নামে নিম্ন আয়ের মানুষের সাথে আরেক তামাশা শুরু করেছে ক্ষমতাসীনরা। সারাদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি ধারণ করা করোন মহামারী নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন কিন্তু হুটহাট করে সরকার যা করছে তা সবই অবাস্তব চিন্তার ফল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, সরকার পরিকল্পিত ভাবে কোন চিন্তা না করে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্নবিত্তরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে। সরকারের এ ধরনের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বলি হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ গুলোও।

দেখা গেছে, মার্চের শুরুর দিকে যখন করোনা বাড়তে শুরু করেছে তখন তখন গুরুত্ব না দিয়ে শেখ মুজিবের জন্মশতবর্ষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলো সরকার। কিন্তু যখন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে করোনা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন তরিঘড়ি করে একটা লকডাউননের ঘোষনা দেয়। কিন্তু দেখা যায় বই মেলা, বঙ্গবন্ধু গেমসসহ নানা আয়োজন তখনও লকডাউনের আওতায় আসেনি। শুধু বাস বন্ধ করে দেয়া হয়। যার কারনে সাধারণ মানুষ পড়ে চরম ভোগান্তিতে।

এরপর যখন করোনা আরো বাড়তে শুরু করে তখন লকডাউন বাড়িয়ে আরো কঠর করা হয়। কিন্তু লকডাউন ঘোষণার আগে একবারও চিন্তা করেনি যে, দিনমজুররা খাবারের ব্যবস্থা করবে কিভাবে? একজন রিকশাচালক এক সপ্তাহ ঘরে বসে থাকার জন্য খাবার পাবে কোথায়? মুদি দোকানি বেচাকেনা না করতে পারলে দোকান ভাড়া দেবে কোথা থেকে আর পরিবারের লোকজন নিয়ে খাবে কি? এসব বিষয় চিন্তা না করেই হুট করে ঘোষণা দিল লকডাউনের।

গত দুই দিনের লকডাউনে দেখা গেছে, বড় লোকটা ঠিকই তাদের প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে রাস্তায় চলাফেরা করছে। পুলিশ তাদেরকে ধরছে না। কিন্তু, দিন আনে দিন খায় এমন মানুষগুলো রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যান নিয়ে রাস্তায় বের হলেই পুলিশ তাদেরকে পিটাচ্ছে। রিকশা নিয়ে নিচ্ছে। অসহায় রিকশা চালকরা পথের পাশে বসে কান্না করছে। কিন্তু পুলিশ নামের অমানুষদের বিবেক নড়ছে না।

প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বুধবার ৩৫টি ব্যাটারিচালিত রিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশা ও ভ্যান জব্দ করে মডেল থানার ভেতরে নেওয়া হয়। তাঁদের অপরাধ, কঠোর লকডাউনে তাঁরা আইন ভঙ্গ করেছেন। পুলিশ আশ্বাস দেয় আসরের নামাজের পর ছেড়ে দেবে। গতকাল বৃহস্পতিবারও তাঁদের রিকশাগুলো ছাড়া হয়নি। রিকশাচালকেরা থানার আশপাশ দিয়ে ঘোরাঘুরি করছেন নিজ নিজ রিকশা ফেরত পাওয়ার আশায়। উপার্জনের একমাত্র উপায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের চোখে-মুখে কেবল হতাশা আর বিষণ্নতা।