বসুন্ধরার মালিকের পরিবারে চাঞ্চল্যকর যত খুন রাষ্ট্রপক্ষের সহায়তায় তারা খালাশ পান।

1255

সম্প্রতি গুলশানে একটি ফ্লাটে তরুণী হত্যার ঘটনায় আবারো নাম উঠেছে বসুন্ধরা গ্রুপের মালিক আহমেদ আকবর সোবহান পরিবারের। জানা যায়, আকবার সুবহানের পুত্র বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক কলেজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরের দিন ভোরে ওই শিক্ষার্থী বড় বোন বাদী হয়ে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া’র অভিযোগ এনে বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু আসলে আত্মহত্যা নয় এটি একটি হত্যাকাণ্ড। সূত্র জানা যায় বিভিন্ন সময় বন্ধুদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে পার্টি করতে আসতো আনভীর। হত্যাকাণ্ডের আগের দিন সন্ধ্যায়ও তার বন্ধুদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে ইফতার পার্টির আয়োজন করে। পরে ইফতার পার্টির ছবি মুনিয়া ফেসবুকে আপলোড করলে তা মুছে ফেলতে বলে আনভীর। এরপর মুছতে না চাইলে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে তানভীর।

এরপরের দিন সকালে ওই কলেজ ছাত্রীকে ফাঁসাতে ৫০ লাখ টাকা চুরির মিথ্যা নাটক সাজায় আনভীর। ফোন দিয়ে মুনিয়োকে ৫০ লাখ টাকা ফেরৎ দেয়ার হুমকিও দেয়। এরপর সোমবার সন্ধ্যায় মরদেহ উদ্ধারের করে মুনিয়ার বোন।

শুধু মুনিয়া হত্যা নয় এর আগেও এমন চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এই আনভীর পরিবারের সদস্যরা। এর আগে ২০০৬ সালের ৪ জুলাই গুলশানের একটা বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করা হয় বসুন্ধরা টেলিকমিউনিকেশসন্স নেটওয়ার্ক লিমিটেডের পরিচালক সাব্বিরকে। এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলো তারই বড়োভাই সাফিয়াত সোবহান সানবীর। এই সময় হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ঘুষ-লেনদেনের অভিযোগে দুদক বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান শাহ আলমসহ তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরবর্তিতে রাষ্ট্রপক্ষের সহায়তায় তারা খালাশ পান।

এছাড়া, বাড়ির কর্মচারীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে এই শাহ আলম পরিবার সদস্যদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার দুই ছেলে হলেন-সাফিয়াত সোবহান এবং সাদাত সোবহান জড়িত ছিলেন।

এদিকে মুনিয়া হত্যার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সোমবার সন্ধ্যা ৭ টায় একটি কার্গো বিমানে করে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে আনভীর। বিমানবন্দর কতৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত কিরেছে।

অন্যদিকে আসামী দেশত্যাগের পর দেশ ছাড়তে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। মুনিয়ার বড়ো বোনের করা মামলায় ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গুলশান থানার নিবন্ধন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন এই নিষেধাজ্ঞা দেন।

তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করেছিলেন গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল হাসান। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন। সেই সঙ্গে ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন— সায়েম সোবহান আনভীর যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন।’

এছাড়া মামলা সূত্রে জানা যায়, মেয়েটির সঙ্গে আনভীরের সম্পর্ক দুই বছরের। ওই ব্যবসায়ী এক বছর মেয়েটিকে বনানীর একটি ফ্ল্যাটে রাখেন। গত মার্চে গুলশানের এই ফ্ল্যাটে ওঠেন মেয়েটি। গত ২৩শে এপ্রিল ইফতার পার্টি হয় ওই বাসায়। ওই পার্টির ছবি ফেসবুকে আপলোড করা নিয়ে মুনিয়ার সঙ্গে আনভীরের মনোমালিন্য হয়। পরে মেয়েটি তার বোনকে ফোন করে জানান, তিনি ঝামেলায় পড়েছেন। এরপরই কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে মিনিয়ার বোন নুসরাত ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ পান। পরে মুনিয়াকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়