মামুনুলকে ফাঁসাতে মিথ্যাচার করেই যাচ্ছে সরকার

973

হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হককে অপদস্ত করতে গিয়ে শেখ হাসিনা প্রতিদিন জঘন্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছেন। আর মিথ্যাচারের আশ্রয় নিতে মামুনুল হকের স্ত্রীকে হুমকি ধমকি দিয়ে বাধ্য করা হচ্ছে। জান্নাত আরা ঝর্ণা মামুনুল হকের দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তাকে দিয়ে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করানো হয়েছে।

অথচ, মামুনুল হক কসম করে বলেছেন-জান্নাত আরা ঝর্ণা তার দ্বিতীয় স্ত্রী। এরপরও সরকার তাকে বাধ্য করেছে বিয়ের বিষয়টিকে অস্বীকার করে মামুনুলের বিরুদ্ধে মামলা করতে।

মামুনুল হককে ফাঁসাতে গিয়ে ক্ষমতাসীন সরকার প্রতিদিন মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে গণমাধ্যম গুলো মিথ্যাচার করছে। আর এসব মিথ্যাচার করতে গিয়ে শেখ হাসিনা নিজেই এখন জনগণের হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছেন।

দেখা গেছে, শুধু গণমাধ্যম নয় বিভিন্ন ভুয়া পোর্টাল করে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে সরকারি মহল।

এদিকে যখন সারাদেশ বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি আনভীর সোবহানের হত্যাকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় করছে ঠিক তখন মামুনুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে জনগণের মুখ ফেরাতে চাইছে।

গত শুক্রবার নারায়ণগঞ্চের সোনারগাও থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে ধর্ষণের মামলা করতে বাধ্য করেছে সরকার। মামলার পর তিনি গণমাধ্যমের কাছে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ করেছেন। যার সব গুলোই বানোয়াট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের চাপে পড়েই জান্নাত আরা ঝর্ণা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন। সোনারগাও রিসোর্ট কাণ্ডের পর থেকেই জান্নাত আরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ছিল। এর মধ্যে গত সপ্তাহে জান্নাত আরার বাবাবে ফরিদপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে এসেছে পুলিশ। বাবা-মেয়েকে এক সাথে করে ফরমায়েশি বক্তব্য দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ। পুলিশ যেভাবে বলতে বলেছে-জান্নাত আরা সেভাবেই গণমাধ্যমের কাছে কথা বলেছেন।

এদিকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে গিয়েও ধরা খেয়ে গেছে পুলিশ বাহিনী। মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলার আরজিটা লেখা ছিল পুলিশের হাতে। জান্নাত আরা সেটা দেখারও সুযোগ পায়নি। আরজিতে জান্নাত আরার বয়স দেখানো হয়েছে ২৭ বছর। আর তার বড় ছেলে আব্দুর রহমানের বয়স দেখানো হয়েছে ১৭ বছর। এই বয়স অনুযায়ী ১০ বছর বয়সে জান্নাত আরার বড় ছেলের জন্ম হয়েছে। আর তার সাবেক স্বামী শহীদুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়েছিল ৯ বছর বয়সে।

তাই সচেতন মহল বলছেন, উপর মহলের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নাটক সাজাতে গিয়ে ফেঁসে গেছেন। বয়সসহ গণমাধ্যমে তার কথা বলার ধরণ সব কিছুই ছিলো নাটকীয়। এমনকি মামলাটি জান্নাত আরা নিজে করেননি। তিনি মামলার কাগজও দেখেননি। যদি তিনি নিজে করতেন তাহলে বয়সের বিষয়টি নিয়ে অবশ্যেই প্রশ্ন তুলতেন। বয়স ২৭ হতো না।

বসুন্ধরার এমডি আনবির জামায়াত-বিএনপির লোক তাই এই কাজ করছেত থ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

আজ শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন ঢাকা গুলশানের যে কাজটা হইছে কুমিল্লার মেয়েটা যে মারা গেছে মেয়েটা অনেক ভাল ছিল এবং যার সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সে একজন জামায়াত-বিএনপি’র লোক তাই আমি হুঁশিয়ার করে বলতে চাই বসুন্ধরা এমডি আনবিরএর কঠিন শাস্তি হতে হবে

তা না হলে বাংলাদেশে এরকম আরো ঘটনা ঘটবে আমাদের সরকারের বদনাম হবে যতগুলো এই অঘটন ঘটে সাথে জড়িত থাকে জামাতের বিএনপির লোক কারণ আমাদের দলের কেউই কাজ করার সাহস পাবে না তাই আমি কঠিন হুশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই বসুন্ধরা গ্রুপ যতই বড় হোক এবং টাকাওয়ালা হোক তার কোনো ছাড় দেয়া হবে না

হাছান মাহমুদ আরো বলেন আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করতাছি দেশ যেন উন্নত হয় এবং দেশ বিশ্বের মানচিত্রে বলতে পারবে যে আমাদের বাংলাদেশ অনেক উন্নত এবং অর্থনৈতিক উন্নত মাঝে মাঝে দুই একটা ঘটনা ঘটায় এগুলা জামায়াতের বিএনপি লোক

সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে হাছান মাহমুদ বলেন বাংলাদেশে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে লেখালেখি হইতাছে তা এগুলা ভালো মানুষের কাম্য নয় এবং এগুলা বিএনপি-জামাতের টাকা দিয়ে ভাড়া করা লোক তাই আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে বলতে চাই আপনারা অনলাইনে করাতে দমন করুন

আজ শুক্রবার হাসান-মাহমুদ নিজ বাসভবনে আরো বলেন যে আমাদের এই সরকারের আমলে কোন কিছু করতে দেওয়া হবে না এবং আমাদের নেতাকর্মীকে আমি বলতে চাই সবার সতর্ক থাকবেন এবং নিরাপদে থাকবেন

আজ এক অনুষ্ঠানে হাছান মাহমুদ বলেন বাংলাদেশে মুসলমানদেরকে আমরা দমন করতে পারবো না কারণ আমরা মুসলমান কষ্ট লাগবে তাই ভারত থেকে আমরা হিন্দুদেরকে এনে তাদেরকে দমন করবো এটা নিয়ে লেখালেখি করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে

বাংলাদেশ যেত মুসলমান আছে তাদেরকে সবাইকে রিমান্ডে নিয়ে এবং রিমান্ড পালিত করবে ভারতের গোয়েন্দারা তারা নির্যাতন করলে আরে মেন্ট পালন করলে এটা নিয়ে কেউ মুখ খুলতে পারবেনা কারণ আমরা দোয়া করি আমাদের ভিতরে আছে

সরকারের কথিত লকডাউন আর হেফাজত নেতা মামুনুল হকের ঘটনায় চাপা পড়ে গেল নারায়ণগঞ্জে লঞ্চ ডুবে ৩৫ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটলেও এটা নিয়ে সরকারের কোনো মন্ত্রী-এমপি কথা বলছেন না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে-বিষয়টিকে তারা মাটিচাপা দিতে চাচ্ছেন।

তারপর ফলাও করে প্রচার করছে না গণমাধ্যমগুলোও। কেন এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটলো? লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়া সেই কার্গো জাহাজটির মালিক কে? জাহাজটি কি অনুমোদন প্রাপ্ত? চালকের কি লাইসেন্স ছিল? এতগুলো মানুষ মারা যাওয়ার পরও মামলা হল না কেন? মালিককে এখনো গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন? জাহাজটি কেন আটক করা হয়নি? সরকার এসব বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না কেন? একটি পত্রিকা ছাড়া দেশের কোনো গণমাধ্যই এসব প্রশ্ন তুলছে না।

জানা গেছে, ডুবে যাওয়া এমএল সাবিত আল হাসান নামের লঞ্চটিকে ধাক্কা দিয়েছিল শেখ পরিবারের সন্তান বাগেরহাট-২ আসনের এমপি সাহরান নাসের তন্ময়ের মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ এমভি এসকেএল-৩। জাহাজটি গত মার্চ মাসে মাত্র নিবন্ধন পেয়েছে। নৌপথে চলাচলের জন্য এখনো অনুমোদন পায়নি। ক্ষমতার প্রভাবে অনুমোদন ছাড়াই জাহাজটি চলাচল শুরু করে।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হল-এই জাহাজ চালানোর মতো যোগ্যতা সম্মপন্ন চালকও ছিল না। আইন অনুযায়ী- দেড় হাজার ব্রেক হর্স পাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের জাহাজ চালানোর জন্য ইনল্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ার অফিসার লাগে। সেখানে এমপি তন্ময় তার জাহাজের জন্য একজন প্রথম শ্রেণির মাস্টার নিয়োগ দিয়েছিল।

এই দুর্ঘটনার পর ডুবে যাওয়ার লঞ্চের মালিক আলাল হোসেন মামলা করতে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। বরং একজন এস আই উল্টো তাকে আটক করার হুমকি দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটা ধামাচাপা দেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকেই চেষ্টা করা হচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই নৌথানা মামলা নেয়নি। আর এমপি সাহরান নাছের তন্ময় শেখ পরিবারের সন্তান হওয়ায় পুলিশও এনিয়ে কোনো তৎপরতা দেখাচ্ছে না।