আমার দল ক্ষমতা আমার মনে যা চায় তা করবো কেউ কিছু করতে পারবে না ইরফান সেলিম

712

বাবা সংসদ সদস্য নিজে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আছে পারিবারিক ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষমতার দম্ভে মানুষকে মানুষ ভাবার সময় ছিলনা তার। নিজের বাড়িকে পরিণত করেছেন অনেকটা দূর্গের মত করে সেখানে আছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবহার করে এমন ওয়াকি টকি ফ্রিকুয়েন্সি ডিভাইস মানুষকে ধরে এনে নির্যাতনের জন্য গড়ে তুলেছিলেন টর্চার সেল। তিনি ঢাকা ৭ আসনের এমপি হাজী সেলিম এর ছেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইরফান সেলিম।

রাজধানীর চকবাজারে ২৬ দেবিদাস ঘাট হাজী সেলিমের রাজকীয় ভবন চান সরদার দাদা বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন হাজী সেলিমের আলোচিত পুত্র ইরফান সেলিম। সোমবার দুপুর ১২ঃ৩০ মিনিট এ বাড়িতে অভিযান এ ঢুকেন র‍্যাব এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম এর নেতৃত্বে র‍্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা। সময়ই হাজী সেলিমের ওই পত্র মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন তিনি গ্রেপ্তার করতে যাওয়ার র‍্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন। আরেকটি সূত্র জানায় র‍্যাবের অভিযান এর আগেই বাড়ির আশপাশে মোড়ে মোড়ে দাঁড়ানো ছিল।

র‍্যাবের ধারণা ওয়াকিটকি দিয়ে পুরো এলাকায় নজরদারি করছিল ওই বাড়ি থেকে একটি ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক স্টেশন উদ্ধার করা হয়েছে। যেখান থেকে .৩৮টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াকিটকি পাওয়া গেছে। যেগুলো সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করেন।

ইরফান সেলিম পুরান ঢাকা তার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য সম্পূর্ণ ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক এর মধ্যে রেখেছেন এ জন্য তিনি অবৈধভাবে ভিপিএস ডিভাইস ব্যবহার করতেন। এই ডিভাইস আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ট্রাক করতে পারেন না, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই তিনি এই ভিপিএস নেটওয়ার্কিং সিস্টেম করেছিলেন যার সরকারি কর্মকর্তারা ব্যবহারের অনুমতি নেই । থরে থরে সাজানো আরো নানা ডিভাইস আর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত ড্রোন, ক্যামেরা সহ নানা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি এমনকি মিলেছে হ্যান্ডকাপ ও।

ইরফান সেলিমের তৃতীয় রুমে বিছানার নিছে দেখা যায় গুলিভর্তি একটি বিদেশী অবৈধ পিস্তল আর বিভিন্ন পরিচয় পত্র আছে দেশি-বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের মাদকদ্রব্য। র‍্যাবের কর্মকর্তা জানিয়েছেন ইরফানের চারতলার বেডরুমে একটি মদের বোতল এবং একটি বক্সে আরো বেশ কয়েকটি বিদেশী মদের বোতল পাওয়া গেছে তাকে মদ্যপ অবস্থায় আটক করা হয়।

র‍্যাবের ধারোনা এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চাঁদাবাজি সন্ত্রাস অবৈধ কাজের তার ক্যাডার বাহিনীর মাধ্যমে তারা এই ওয়াকিটকি গুলা ব্যবহার করতেন। এই ভবনের পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে একটি টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে যেখানে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রতিপক্ষকে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে জিম্মি করে টর্চার করা হতো বলে ধারণা করছেন র‍্যাব এমনকি এখানে মানুষের হাড় পাওয়া গেছে ।

উদ্ধার অভিযান চলাকালে ইরফানের বারান্দায় পাওয়া যায় একটি সোনালি রঙের দূরবীন! দূরবীন এর মাধ্যমেই এরফান সেলিম এলাকার আশেপাশের পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখতেন। এতদিন ইরফানের ভয়ে ভীত থাকলেও তার বাসায় র‍্যাবের অভিযান এর পর মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। জানান স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম রাতে মদ পান করত ৩ লাখ টাকায় কেনা দুটি বিদেশি কুকুর নিয়ে প্রায় সময়ই রাতে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করতো সে সময় তার সঙ্গে থাকত দেহরক্ষীরা ।

এর আগে ২৫ অক্টোবর রবিবার রাতে ধানমন্ডিতে সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের গারি সঙ্গে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমের মোটরসাইকেলের ঘষা লাগে তাকে বেধড়ক মারধর করেছেন গাড়িতে থাকা কয়েকজন নেতার দাঁত ভেঙে যায়। এসময় তার স্ত্রী বাঁচাতে গেলে তাকেও লাঞ্ছিত করা হয়।

গাড়িটি ছিল হাজী সেলিমের তবে ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না গাড়িতে ছিলেন তার ছেলে ইরফান সেলিম ও নিরাপত্তারক্ষীরা। এই ঘটনায় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে মোহাম্মদ ইরফান সহ ৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা।

ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সাড়ে বারোটার দিকে হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে এর অবস্থান সনাক্ত করে তার বাসায় অভিযান পরিচালনা করেন র‍্যাব।

পরে র‍্যাব ইরফান ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় অবৈধভাবে ওয়াকিটকি রাখা ও ব্যবহারের দায়ে ইরফান সেলিমকে ৬ মাস এবং মদ্যপান করার জন্য আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় তার দেহরক্ষিকেও তাকেও একই দণ্ড দেওয়া হয় এর পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের করবে র‍্যাব । .