২০ কোটি টাকার বিনিময় বাদী থেকে আসামি হচ্ছেন নুসরাত?

1175

মোসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার বাদী তার বোন নুসরাত জাহান নিজেই এ মামলায় ফেঁসে যেতে পারেন বলে আভাস মিলছে তদন্তকারীদের সূত্রে।

একাধিক সূত্র বলছে, মামলার বাদী থেকে আসামিতে পরিণত হতে পারেন নিহত মুনিয়ার বোন নুসরাত। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পরিবারের অন্য সদস্যদের অন্ধকারে রেখে নুসরাত ও তার স্বামী ব্যক্তিনির্দিষ্ট করে মামলা করলেন কেন? যেখানে তদন্তে মুনিয়ার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির সম্পর্কের সূত্র পাওয়া যাচ্ছে সেখানে এক ব্যক্তিকেই তিনি কেন আসামি হিসেবে উল্লেখ করলেন।

তদন্তকারীদের কেউ কেউ বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার বাদী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির হত্যাকা-ে সহযোগিতায় দ-প্রাপ্তির বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে এমনও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এ মামলায় আসামি হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে যেতে পারেন মুনিয়ার বোন নুসরাত
যে তথ্যগুলো তারা খতিয়ে দেখছেন তা হলোÑ
বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন নুসরাত এবং তার স্বামী। এটি মুনিয়ার বাড়ি নয় এবং নুসরাত ও তার স্বামীর ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বাড়ি ভাড়ার অগ্রিম যে টাকা সেটিও নুসরাত দিয়েছিলেন। ভাড়া নেওয়ার সময় নুসরাত বলেছিলেন যে, তিনি এবং তার স্বামী ও ছোট বোন মুনিয়াকে নিয়ে এখানে থাকবেন।

মুনিয়ার কথোপকথন ও টেক্সট চালাচালি থেকে জানা যায়, ছোট বোনের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছিলেন নুসরাত এবং এ টাকাটা দিয়ে তিনি কী করেছিলেন সেটিও অজানা। পুলিশের উদ্ধার করা টেক্সট মেসেজে জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে নুসরাত মুনিয়াকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। টাকার জন্য বিভিন্নভাবে মুনিয়াকে ব্যবহার করতেন। একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, বোনের জন্য টাকা জোগাড়ের যে চাপ সেই চাপ মুনিয়াকে বিপর্যস্ত করেছিল। এটিও এ মামলার অন্যতম একটি উপজীব্য হতে পারে।

মুনিয়ার মৃত্যু এবং ঢাকায় এসে নুসরাতের একের পর এক কর্মকাণ্ড, কথাবার্তা সেগুলো যখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পাশাপাশি মেলাচ্ছে তখন তাতে অসামঞ্জস্যতা মিলছে। একটি তথ্য গোপন করে আরেকটি তথ্য প্রকাশের চেষ্টা এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম তথ্য দেওয়া। তিনি কোনো তথ্য গোপন করছেন কি না তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন।